উত্থান-পতনের বাজারে এক সপ্তাহে ২ হাজার টাকা মহার্ঘ সোনা, রেকর্ড ছুঁল রুপোও! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েন এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের নানা সমীকরণের জেরে ভারতের বাজারে সোনা ও রুপোর দামে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। সপ্তাহান্তে সামান্য কিছুটা কমলেও, সামগ্রিক সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দুই মূল্যবান ধাতুর দামই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সপ্তাহে সোনার দাম ০.১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ২৪-ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে এক ধাক্কায় ২,১৩০ টাকা এবং ২২-ক্যারেট সোনার দাম ১,৯৫০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে চড়া সুর বজায় রেখে প্রতি কেজিতে ৫,০০০ টাকা বেড়েছে রুপোর দামও।
বিশ্ব রাজনীতি ও আমদানি শুল্কের প্রভাব
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অপরিশোধিত তেলের বাজার পরিস্থিতি এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো সরাসরি সোনার দামকে প্রভাবিত করছে। তবে এই মুহূর্তে বিনিয়োগকারীদের মূল নজর রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক আলোচনার দিকে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া সংক্রান্ত একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা বাজারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স ৪,৫২২.৩২ ডলার এবং স্পট রুপো প্রতি আউন্স ৭৮.২১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
মেট্রো শহরগুলোতে সোনার লেটেস্ট রেট
জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে আজ প্রতি ১০ গ্রাম ২৪-ক্যারেট সোনা ১,৫৯,২১০ টাকা এবং ২২-ক্যারেট সোনা ১,৪৫,৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতা ও মুম্বইয়ের বাজারে ২২-ক্যারেট সোনার দাম ১,৪৫,৮০০ টাকা এবং ২৪-ক্যারেট সোনার দাম ১,৫৯,০৬০ টাকা। দক্ষিণের শহর চেন্নাইতে দাম কিছুটা বেশি, সেখানে ২৪-ক্যারেট সোনার দর প্রতি ১০ গ্রামে ১,৬০,৬৯০ টাকা এবং ২২-ক্যারেট সোনার দর ১,৪৭,৩০০ টাকা। অন্যদিকে পুনে এবং বেঙ্গালুরুতেও সোনা বিকোচ্ছে কলকাতা ও মুম্বইয়ের সমদরে।
রেকর্ড আমদানির হাত ধরে রুপোর দাপট
সোনার পাশাপাশি ভারতের বাজারে রুপোর চাহিদাও তুঙ্গে। ২৪ মে সকালে দেশের বাজারে প্রতি কেজি রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে ২,৮৫,০০০ টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বাজারে রুপোর আমদানির পরিমাণ আকাশছোঁয়া রূপ নিয়েছে। গত এপ্রিল মাসেই রুপো আমদানি ১৫৭.১৬ শতাংশ বেড়ে ৪১১ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রুপোর মোট আমদানি প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা পরিমাণের দিক থেকে প্রায় ৪২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,৩৩৪.৯৬ টনে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা বজায় থাকলে আগামী দিনেও ধাতু দুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
