তৃণমূল প্রার্থীর নাটকীয় প্রস্থান ও শুভেন্দুর ঝোড়ো প্রচারের পর আজ কি ফুটবে পদ্ম, সবার নজর ফলতার ভোটগণনায় – এবেলা

তৃণমূল প্রার্থীর নাটকীয় প্রস্থান ও শুভেন্দুর ঝোড়ো প্রচারের পর আজ কি ফুটবে পদ্ম, সবার নজর ফলতার ভোটগণনায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনা আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২১ মে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই ভোটের ফলাফল জানতে এখন টানটান উত্তেজনা রাজনৈতিক মহলে। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভোটগণনার সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। তিনস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। মোট ১৯টি টেবিলে ২১ রাউন্ড ধরে এই ভোটগণনা চলবে।

কারচুপির অভিযোগে বাতিল থেকে তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো

গত ২৯ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ফলতায় ভোটগ্রহণ হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয় বিজেপি। অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন পূর্ববর্তী ভোটটি সম্পূর্ণ বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। তবে আসল চমক আসে পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে, যখন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নাটকীয়ভাবে নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তৃণমূল নেতৃত্ব একে প্রার্থীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দাবি করলেও, এর পেছনে সরকারি প্যাকেজ ও অন্য সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। শাসকদল মাঠ ফাঁকা করে দেওয়ায় এই নির্বাচনে বাড়তি অক্সিজেন পায় বিজেপি শিবির। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার সমর্থনে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে এসে জোরদার প্রচার চালান।

শান্তিপূর্ণ ভোট ও ফলাফলের সম্ভাব্য প্রভাব

গত ২১ মে ৩৫ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় ফলতায় পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিন বিতর্কিত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের বাড়ির আশপাশে ছিল নজিরবিহীন নজরদারি। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া তৎপরতায় কোনও বড় অশান্তি ছাড়াই ভোটপ্রক্রিয়া শেষ হয় এবং প্রায় ৮৮ শতাংশ রেকর্ড ভোট পড়ে। তৃণমূল প্রার্থী লড়াইয়ে না থাকলেও সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীরা ময়দানে থাকায় প্রতিযোগিতা কিছুটা ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে। আজকের ফলাফলের ওপর দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই নির্ভর করছে। তৃণমূল প্রার্থীর এই রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিজেপি যদি এই আসনটি ছিনিয়ে নিতে পারে, তবে তা রাজ্যের শাসকদলের জন্য বড় ধাক্কা হবে এবং এই অঞ্চলে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ফলতার মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নিলেন, তা আজ বিকেলের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *