বাবর ফিরলেন, রিজওয়ান বাদ! অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের নির্বাচনের প্রহসন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাকিস্তান ক্রিকেটে ফর্ম সাময়িক হলেও নির্বাচকদের খামখেয়ালিপনা যেন চিরস্থায়ী। এক সিরিজে বাদ পড়ার পর পরের সিরিজেই আবার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, আবার কখনো রান করেও দল থেকে ছুিট—এই চেনা চক্রে আবর্তিত হচ্ছে পাক ক্রিকেট। আসন্ন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজের দল ঘোষণা হতেই পাকিস্তান ক্রিকেটের সেই পুরনো রূপটাই আবার প্রকাশ্যে এলো। যেখানে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা দিয়েছে ছন্দে থাকা উইকেটকিপার-ব্যাটার মহম্মদ রিজওয়ানের বাদ পড়া এবং দলে বাবর আজমের প্রত্যাবর্তন। আগামী ৩০ মে থেকে শুরু হতে চলা এই সিরিজের জন্য শাহিন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন ১৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পারফরম্যান্সের চেয়েও বড় নির্বাচননীতির অদ্ভূত অঙ্ক
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ভরাডুবির মাঝেও যে কয়েকজন ক্রিকেটার ব্যাটে-বলে লড়াই করেছিলেন, মহম্মদ রিজওয়ান তাঁদের অন্যতম। অথচ ওয়ান ডে দল থেকে তাঁকে ছেঁটে ফেলা হলো অত্যন্ত আকস্মিকভাবে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মার্চ মাসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে তিন ম্যাচে মাত্র ৫৮ রান করার খেসারত দিতে হলো রিজওয়ানকে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে নির্বাচকদের দূরদর্শিতার অভাব স্পষ্ট। কারণ গত বছর ১৭টি ওয়ান ডে ম্যাচে ৪৩.৭৬ গড়ে ৫৬৯ রান করেছিলেন রিজওয়ান, যার মধ্যে ছিল একটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফসেঞ্চুরি।
অন্যদিকে, বাবর আজমের ক্ষেত্রে গল্পটা ঠিক বিপরীত। টি-২০ বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজ থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। অথচ ২০২৫ সালে ১৭ ম্যাচে ৭৭.১৬ গড়ে ৫৪৪ রান করা বাবরকে আচমকা বাদ দেওয়া নিয়ে তখন কম বিতর্ক হয়নি। এবার ব্যাটিং বিপর্যয় রুখতে তড়িঘড়ি ফের তাঁকেই টপ অর্ডারের দায়িত্ব সঁপে দিল পিসিবি। এই ঘটনা প্রমাণ করে, পাকিস্তান ক্রিকেটে যোগ্যতার চেয়েও বোর্ডের অলিখিত ‘রিফ্রেশ’ নীতিই শেষ কথা বলে।
চাপের মুখে একঝাঁক নতুন মুখ ও পরীক্ষা
ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে ০-২ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর নির্বাচকদের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছিল। আর পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাস বলে, চাপ বাড়লেই শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নতুন বিতর্ক। রিজওয়ান বাদ পড়ায় উইকেটকিপিংয়ের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহম্মদ গাজি ঘোরি ও অনভিষিক্ত রোহাইল নজিরকে। এছাড়া দলে ফিরেছেন নাসিম শাহ, শাদাব খান ও সুফিয়ান মোকিম।
অসুস্থতার কারণে দলে নেই উসমান খান। পাশাপাশি চোটের কারণে রিহ্যাবে থাকায় স্কোয়াডে রাখা সম্ভব হয়নি ফখর জামান ও সাইম আইয়ুবকে। এই শূন্যস্থান পূরণে আহমেদ দানিয়াল ও আরাফাত মিনহাসের মতো নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য শুক্রবার ইসলামাবাদে একত্রিত হবে গোটা দল। ২৩ মে থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতি শিবিরে কোচ মাইক হেসনের অধীনে ঘাম ঝরাবেন ক্রিকেটাররা। রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই সিরিজের প্রথম ম্যাচ ৩০ মে। পরবর্তী দুটি ওয়ান ডে যথাক্রমে ২ ও ৪ জুন লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। অনভিজ্ঞ দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই পরীক্ষা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।
