বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ? প্রেমিককে হাত-পা বেঁধে জীবন্ত পোড়ালেন প্রেমিকা! – এবেলা

বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিশোধ? প্রেমিককে হাত-পা বেঁধে জীবন্ত পোড়ালেন প্রেমিকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রেমের সম্পর্কে প্রতারণার অভিযোগ, প্রেমিককে পুড়িয়ে মারলেন তরুণী

বেঙ্গালুরুর ব্যাভারাশাল্লি এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রেমিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে এবং সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে তাকে নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত বেঙ্গালুরুর আঞ্জনা নগরে। অভিযুক্ত তরুণী প্রেমা এবং নিহত যুবক কিরণ একই সংস্থায় কর্মরত ছিলেন এবং দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁদের। এমনকি দুজনে বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি কিরণ তরুণীর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা শুরু করেন এবং ফোন তোলা বা কথা বলা বন্ধ করে দেন। এমনকি তরুণীর নম্বরও ব্লকলিস্টে রেখেছিলেন তিনি। এই প্রত্যাখানকেই মেনে নিতে পারেননি প্রেমা।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, পরিকল্পিতভাবে কিরণকে নিজের বাড়িতে ডেকেছিলেন প্রেমা। অভিযোগ, খুনের ঠিক আগেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। এরপরই তরুণী কিরণের হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখা কেরোসিন তাঁর গায়ে ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সময়কার দৃশ্য প্রেমা নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ডও করেছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে কিরণের মৃত্যু হয়।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, প্রেমা চেয়েছিলেন ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কিরণকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এবং ৪ লক্ষ টাকা মূল্যের বাইক ও মোবাইল উপহার দিতে। কিন্তু কিরণের এই আচমকা দূরত্ব তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলে। কিরণকে হত্যার পর প্রেমা নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার সময় প্রেমার নিজের শরীরেও কিছু অংশ পুড়ে যায়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীরা তাঁকে সাহায্য করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বিষের বোতল ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই প্রেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে ব্যাভারাশাল্লি থানার পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *