“সংখ্যালঘু নয়, ‘মুসলিম’ নাম নিয়েই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হোন”: কংগ্রেস নেতাদের বার্তা রাহুল গান্ধীর – এবেলা

“সংখ্যালঘু নয়, ‘মুসলিম’ নাম নিয়েই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হোন”: কংগ্রেস নেতাদের বার্তা রাহুল গান্ধীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

‘নিজের সম্প্রদায়ের সমস্যাগুলি নিয়ে খোলামেলা সরব হন’, কংগ্রেসের মুসলিম নেতাদের বার্তা রাহুল গান্ধীর

কংগ্রেসের অন্দরে সংখ্যালঘু রাজনীতি এবং জনপরিষেবার রণকৌশলে এক বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার দলের সংখ্যালঘু বিভাগের উপদেষ্টা পরিষদের (Advisory Council) একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি কংগ্রেসের মুসলিম নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন নিজেদের সম্প্রদায়ের যেকোনো সমস্যা বা বঞ্চনার বিষয়ে অনেক বেশি মুখর ও সোচ্চার হন।

‘সংখ্যালঘু’ নয়, সরাসরি ‘মুসলিম’ শব্দ ব্যবহারে জোর

দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে রাহুল গান্ধী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, যদি কোনো মুসলিম নাগরিকের সাথে অন্যায় বা অবিচার করা হয়, তবে নেতাদের কেবল ‘সংখ্যালঘু’ (Minority) গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং একজন ‘মুসলিম’ হিসেবেই সরাসরি আওয়াজ তোলা উচিত।

বৈঠকে উপস্থিত এক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা জানান, রাহুলের মূল বার্তাটি ছিল অত্যন্ত সোজাসাপটা—দল যেন কোনোভাবেই ‘মুসলিম’ শব্দটি ব্যবহার করতে ইতস্তত বা কুণ্ঠাবোধ না করে। বর্তমান রাজনৈতিক আবহে প্রায়ই দেখা যায়, রাজনৈতিক দলগুলি সরাসরি ‘মুসলিম’ শব্দ উচ্চারণ না করে আড়াল তৈরি করতে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির আড়ালে কথা বলে। রাহুল এই প্রবণতা ঝেড়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন।

দলিত, ওবিসি ও সাধারণ শ্রেণির ক্ষেত্রেও একই নীতি

শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ই নয়, রাহুল গান্ধী সামাজিক পরিচিতির ভিত্তিতে প্রতিবাদের অধিকারকে আরও বিস্তৃত করার কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন:

  • যদি কোনো দলিত (Dalit), ওবিসি (OBC) কিংবা সাধারণ শ্রেণির (General Category) মানুষের ওপর কোনো রকম আক্রমণ বা বঞ্চনা হয়, তবে সেই নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করেই প্রতিবাদের সুর চড়ানো উচিত।
  • রাজনৈতিক ও সামাজিক লড়াইয়ে ভুক্তভোগীর আসল সামাজিক পরিচয় লুকিয়ে রাখা বা আড়াল করার কোনো প্রয়োজন নেই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য

সূত্রের দাবি, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে কথা বলার সময় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন রাহুল। তিনি বৈঠকে জানান, এর আগে ভোট চুরির (বা ইভিএম/ভোট জালিয়াতি) ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের অবস্থানের সাথে সম্পূর্ণ একমত ছিলেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনিও এর বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন, যা বিরোধী শিবিরের ঐক্যকে আরও মজবুত করবে।

এক ঝলকে

  • কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিভাগের বৈঠকে মুসলিম নেতাদের নিজেদের সম্প্রদায়ের অধিকার ও বঞ্চনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার আহ্বান রাহুল গান্ধীর।
  • ‘সংখ্যালঘু’ শব্দের আড়ালে না লুকিয়ে প্রয়োজনে সরাসরি ‘মুসলিম’ শব্দ ব্যবহার করে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার নির্দেশ।
  • একইভাবে দলিত, ওবিসি বা সাধারণ শ্রেণির মানুষের ওপর হামলা হলেও নির্দিষ্ট পরিচয় তুলে ধরে প্রতিবাদের বার্তা।
  • ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্দোলনের ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বদল ও বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ উত্থাপন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *