হোয়াইট হাউসের বাইরে এলোপাথাড়ি গুলি! সিক্রেট সার্ভিসের পালটা অ্যাকশনে খতম বন্দুকবাজ নাসির, সুরক্ষিত ট্রাম্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কে এই নাসির বেস্ট? হোয়াইট হাউসের বাইরে হামলাকারী বন্দুকবাজ সম্পর্কে যা জানা গেল
রবিবার (২৪ মে) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে হামলাকারী সেই বন্দুকবাজের পরিচয় এবং তার অতীত রেকর্ড সামনে এসেছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এবং সে দেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওই যুবকের নাম নাসির বেস্ট (Nasir Best)। সে আমেরিকার মেরিল্যান্ড (Maryland)-এর বাসিন্দা এবং তার বয়স মাত্র ২১ বছর।
তদন্তে নেমে নাসির বেস্টের মানসিক স্বাস্থ্য এবং তার অতীত অপরাধমূলক রেকর্ড সম্পর্কে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।
নাসির বেস্ট সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য
- মানসিক ব্যাধি ও ‘যীশু খ্রিষ্ট’ বিভ্রম: মার্কিন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, নাসির বেস্ট দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিল। সে মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত ছিল যে, নিজেকে ‘যীশু খ্রিষ্ট’ (Jesus Christ) বলে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল।
- সিক্রেট সার্ভিসের নজরে আগে থেকেই ছিল: নাসির সিক্রেট সার্ভিসের কাছে কোনো নতুন মুখ ছিল না। এর আগেও ফেডারেল নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে তার একাধিকবার সংঘাত হয়েছে।
- ২৬ জুন, २०२৫: সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টদের পথ আটকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাকে প্রথমবার আটক করা হয়েছিল।
- ১০ জুলাই, २०२৫: হোয়াইট হাউসের একটি উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত ও নিষিদ্ধ এলাকায় জোরপূর্বক প্রবেশ করার অপরাধে তাকে আবারও হেফাজতে নেওয়া হয়।
- আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন: গত বছরও সে একবার হোয়াইট হাউসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল। এরপর মার্কিন আদালতের তরফে তাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন সে কোনোভাবেই হোয়াইট হাউস চত্বরের আশেপাশে না আসে। রবিবার আদালতের সেই নির্দেশ বা ‘প্রহিবিশন অর্ডার’ ভেঙেই সে হামলা চালায়।
কীভাবে ঘটেছিল সেই রোমহর্ষক ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটে হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে, ১৭ নম্বর স্ট্রিট এবং পেনসিলভেনিয়া অ্যাভিনিউ NW-র সংযোগস্থলের কাছে।
স্থানীয় সময় সন্ধে ৬টার কিছু পরে, নাসির বেস্ট একটি ব্যাগ নিয়ে হোয়াইট হাউসের চেকপয়েন্টের দিকে এগিয়ে আসে। সেখানে পৌঁছানোর পরই সে ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ডিউটি অফিসারদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি প্রায় ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলি চালায়। আওয়াজ শুনে আশেপাশের পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে থাকা সাংবাদিকদের দ্রুত দৌড়ে গিয়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে আশ্রয় নিতে বলা হয়।
নিরাপত্তারক্ষীরাও তৎক্ষণাৎ পাল্টা গুলি চালালে নাসির গুরুতর জখম হয় এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই গোলাগুলির মাঝপড়ে এক পথচারীও আহত হয়েছেন।
ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
হামলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন, তবে তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন। বিগত কয়েকমাসে ট্রাম্পের ওপর একাধিকবার প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা হওয়ায় এই ঘটনা মার্কিন প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে পেনসিলভেনিয়ার বাটলারের র্যালিতে তাঁর কানে গুলি লেগেছিল এবং ২০২৫-এর এপ্রিলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারেও তাঁকে নিশানা করার চেষ্টা হয়েছিল।
বর্তমানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI) এবং সিক্রেট সার্ভিস যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। নাসির বেস্টের এই আত্মঘাতী হামলার পিছনে একক মানসিক বিকৃতি নাকি অন্য কোনো বড় ষড়যন্ত্র ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানো ২১ বছর বয়সী নিহত যুবকের নাম নাসির বেস্ট, সে মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা।
- নাসির তীব্র মানসিক অবসাদ ও বিভ্রমে ভুগছিল এবং নিজেকে ‘যীশু খ্রিষ্ট’ বলে দাবি করত।
- আগেও দু’বার সিক্রেট সার্ভিসের হাতে ধরা পড়েছিল সে; হোয়াইট হাউসে ঢোকার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞাও ছিল তার ওপর।
- হামলার উদ্দেশ্য জানতে এফবিআই (FBI) এবং সিক্রেট সার্ভিস তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
