এবার হাতছাড়া হচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন দিল্লির জিমখানা ক্লাব, আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে জমি ফাঁকা করার চরম নির্দেশ কেন্দ্রের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ও অভিজাত ‘জিমখানা ক্লাব’ বন্ধের মুখে। লুৎয়েনস দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে অবস্থিত ১১৩ বছরের পুরনো এই ক্লাবটিকে অবিলম্বে জমি খালি করার নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট’ (ভূমি ও উন্নয়ন) দপ্তর থেকে পাঠানো এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৫ জুনের মধ্যে ২৭.৩ একরের বিশাল এই জমি সরকারের হাতে তুলে দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে জমি হস্তান্তর করা না হলে ক্লাব কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী ইজারা বাতিলের কারণ
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের রাজধানীর অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কৌশলগত এলাকার মধ্যে এই ক্লাবটি অবস্থিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা এবং দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে এই জমির জরুরি ব্যবহার আবশ্যক হয়ে পড়েছে। ১৯১১ সালে ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের পর, তৎকালীন ব্রিটিশ আধিকারিকদের আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলার জন্য ১৯১৩ সালে এই ‘ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব’ চালু হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে সামাজিক মেলামেশার উদ্দেশ্যে দেওয়া সেই দীর্ঘমেয়াদী ইজারার চুক্তিতে এবার জনস্বার্থে ইতি টানছে কেন্দ্র। নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার সাথে সাথেই ওই জমিতে থাকা সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিকানা এখন সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির অধীনে চলে গেছে।
ইতিহাসের অবসান ও সম্ভাব্য প্রভাব
ব্রিটিশ স্থপতি রবার্ট টি রাসেলের নকশায় তৈরি এই ক্লাবটির সাথে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের বহু ঐতিহাসিক স্মৃতি। ১৯৩০ সালে ভাইসরয়ের স্ত্রী লেডি উইলিংটন এই ক্লাবের সুইমিং পুলের জন্য অর্থ অনুদান দিয়েছিলেন, আবার ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় হিন্দু, মুসলিম ও শিখ বাহিনীর অফিসারেরা এই চত্বরেই একে অপরকে বিদায় জানিয়েছিলেন। দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দিল্লির উচ্চবিত্ত ও অভিজাত মহলের সামাজিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত এই ক্লাবের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে লুৎয়েনস দিল্লির চত্বরে এক বড়সড় পরিবর্তন আসবে। তবে সরকারের এই আকস্মিক ও কঠোর পদক্ষেপে দিল্লির রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব আগামী দিনে আইনি যুদ্ধ কিংবা রাজধানীর নিরাপত্তার নতুন রূপরেখা নির্ধারণে দেখা যেতে পারে।
