কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন কাণ্ড! তালাবন্দি কক্ষের বাইরে উত্তপ্ত বৈঠক – এবেলা

কলকাতা পুরসভায় নজিরবিহীন কাণ্ড! তালাবন্দি কক্ষের বাইরে উত্তপ্ত বৈঠক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে এক বেনজির ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। নির্ধারিত সূচি মেনে পুরসভার মাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে এসে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হলো কাউন্সিলরদের। পুরসভার মূল অধিবেশন কক্ষটি তালাবন্ধ থাকায় ভেতরে ঢুকতেই পারলেন না তাঁরা। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলর’স ক্লাব রুমের মেঝেতেই বসলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়, মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ অন্যান্য কাউন্সিলরেরা। মাইক ছাড়াই সেখানে চলে পুরসভার জরুরি কাজ। কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে অতীতে এমন ঘটনা কখনও ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না প্রবীণ রাজনীতিকদের কেউই।

চাবি দিতে অস্বীকৃতি ও নেপথ্যের কারণ

শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন উপলক্ষ্যে যথাসময়ে উপস্থিত হয়েছিলেন কাউন্সিলরেরা। কিন্তু ঘরটি তালাবন্ধ থাকায় চেয়ারপার্সন মালা রায় নিজে তা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানান। অভিযোগ, পুরসভার নতুন সেক্রেটারি সাফ জানিয়ে দেন যে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেননি, তাই চাবি দেওয়া সম্ভব নয়। এই ঘটনার পেছনে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে দায়ী করছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও, কলকাতা পুরসভার বোর্ড এখনও তৃণমূলের দখলেই রয়েছে, যার মেয়াদ রয়েছে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। তৃণমূলের অভিযোগ, ক্ষমতার জোরে বিজেপি নতুন সরকারের আমলাদের নিয়ন্ত্রণ করে পুরসভার গণতান্ত্রিক কাজে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে।

পরিষেবা ব্যাহত ও সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কা

এই ঘটনার জেরে কলকাতার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, হাউস খোলা বা বন্ধ করার একচ্ছত্র অধিকার চেয়ারপার্সনের। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এভাবে আটকে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখের ও অপমানের। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামনেই বর্ষা, এই পরিস্থিতিতে শহরে জল জমলে বা কোনো বিপর্যয় ঘটলে তার দায় কে নেবে? নির্বাচিত সদস্যদের কাজ করতে না দিলে রাজ্যে এক চরম সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হবে।

পুরসভার এই অচলাবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। অন্যদিকে, কার নির্দেশে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হলো, তা জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভা চত্বরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *