ক্যারিবিয়ান সাগরে নতুন সমীকরণ, কিউবাকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি তিন মহাশক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে তিন দশক পুরনো একটি মামলায় আমেরিকার চার্জ গঠনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ রাশিয়া এবং চিন সরাসরি ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপের ফলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে নতুন করে ঠান্ডা লড়াইয়ের আবহ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বেজিং এবং মস্কোর তীব্র ক্ষোভ
নব্বইয়ের দশকে কিউবার আকাশসীমায় একটি বিমান ধ্বংস এবং মার্কিন নাগরিকদের হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এর পরিপ্রক্ষিতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই প্রাক্তন বা বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ করা উচিত নয়, যা কার্যত হিংসার শামিল। অন্যদিকে চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিচার বিভাগকে হাতিয়ার করে কিউবার ওপর চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা উচিত আমেরিকার। সেই সঙ্গে কথায় কথায় শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেওয়া বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে বেজিং।
ফিরে আসছে কিউবান মিসাইল সংকটের ছায়া
ওয়াশিংটনের সমালোচনা করে দুই শক্তিধর দেশই দাবি করেছে, কিউবার ওপর মার্কিন চাপ এবং নিষেধাজ্ঞা শুধু লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীলতাকেই নষ্ট করছে না, বরং নতুন সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি বিশেষজ্ঞদের ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক ‘কিউবান মিসাইল সংকট’-এর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন গোটা বিশ্ব তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কায় কেঁপে উঠেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই চরম পর্যায়ে না পৌঁছালেও কিউবাকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-চিন বনাম আমেরিকার কৌশলগত অবস্থান ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।
লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এই আইনি পদক্ষেপের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “কিউবাকে মুক্ত করছে আমেরিকা।” বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতেও পড়তে পারে। ওই অঞ্চলের আমেরিকা-বিরোধী সরকারগুলি ইতিমধ্যেই চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে। ফলে কিউবাকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি হলে গোটা অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্য বদলে যেতে পারে এবং আমেরিকার ‘নিজের উঠোন’ বলে পরিচিত ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সংঘাতের মেঘ আরও ঘনীভূত হতে পারে।
