গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, হাই কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী! – এবেলা

গ্রেফতারিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ, হাই কোর্টে বড়সড় স্বস্তি পেলেন অদিতি মুন্সি ও দেবরাজ চক্রবর্তী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারির আশঙ্কায় অবশেষে স্বস্তি পেলেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্ট এক মৌখিক নির্দেশে জানিয়েছে, আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত এই রাজনীতিক দম্পতিকে গ্রেফতার করা যাবে না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া যাবে না। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে বাঁচতে বৃহস্পতিবারই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি।

আইনি লড়াইয়ে রাজনৈতিক চমক

এই মামলার শুনানিতে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা গিয়েছে আদালত কক্ষে। তৃণমূলের এই তারকা দম্পতির পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা প্রখ্যাত সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। রাজ্যের তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়দের নামে হস্তান্তর করেছেন অদিতি ও দেবরাজ, যাতে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানো যায়।

পাল্টা যুক্তিতে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, সম্পত্তি অন্য কারও নামে হস্তান্তর করা কোনও অপরাধ নয়। যদি আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ থাকে, তবে তা আয়কর দফতর খতিয়ে দেখবে, এখানে পুলিশের হস্তক্ষপের কোনও এক্তিয়ার নেই। হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়া বড়জোর নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হতে পারে, কিন্তু তা কোনও ফৌজদারি অপরাধ নয়।

তোলাবাজি ও সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে অদিতি ও দেবরাজের আয়ের উৎস নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে। রাজ্যের দাবি, এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং জমি দখলের মাধ্যমেই এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। এমনকি কালিম্পং সহ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ভোটের আগে সমস্ত টাকা সরিয়ে ফেলার অভিযোগও আনা হয়েছে। রাজ্য আরও জানায়, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং দেবরাজ নিজে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলাতেও অভিযুক্ত।

উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন, আগামী ১৯ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রাজ্যকে এই অভিযোগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য, নথি এবং তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। সেই সময় পর্যন্ত এই দম্পতিকে অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষাকবচ প্রদান করেছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *