তিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ, সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি – এবেলা

তিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ, সোমবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনা এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছাল। নয়ডার বাসিন্দা তিশার মৃত্যুর তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠার পর, শনিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলা গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী সোমবার, ২৫ মে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি হতে চলেছে। এই বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি।

প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ও সুপ্রিম হস্তক্ষেপ

গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তিশা শর্মার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তিশার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তাঁকে মাদকাসক্ত বলে দাবি করা হলেও, তাঁর পরিবারের অভিযোগ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিশার স্বামী সমর্থ সিং পেশায় একজন আইনজীবী এবং তাঁর শাশুড়ি গিরিবালা সিং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। ফলে, তিশার পরিবার শুরু থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছিল যে উচ্চপদস্থ ও আইনজ্ঞ পরিবারের সদস্য হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তদন্ত প্রক্রিয়াকে ভুল পথে চালনা এবং প্রভাবিত করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শীর্ষ আদালত সরাসরি এই মামলায় হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গ্রেপ্তার স্বামী, এইমসের বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন

ঘটনার পর থেকে গত ১০ দিন ধরে পলাতক থাকার পর, জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন তিশার স্বামী সমর্থ সিং। আদালত তাঁকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তের স্বার্থে ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের নির্দেশে তিশার দেহের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে দিল্লির এইমস (AIIMS) চার সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে, যারা ইতিমধ্যেই ভোপাল পৌঁছেছে। বর্তমানে মৃতদেহটি ভোপাল এইমসের মর্গে রাখা রয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তিশার শাশুড়ি তথা প্রাক্তন বিচারপতির জামিন বাতিলের নোটিসও জারি করা হয়েছে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিকভাবে এই মৃত্যুর পেছনে গভীর পারিবারিক কলহ ও পণের দাবি জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে। মৃতের বাবা-মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তিশার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। দেশের একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠায় এবং সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করায় এই মামলার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। সর্বোচ্চ আদালতের কড়া নজরদারির কারণে স্থানীয় প্রশাসনের ওপর থেকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ মুক্ত হয়ে পুলিশ ও মেডিকেল বোর্ড সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে, যা এই রহস্যমৃত্যুর প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *