তীব্র গরমে রাতভর এসি আর ফ্যানের হাওয়ায় নাক গলা শুকিয়ে কাঠ, জেনে নিন বাঁচার উপায় – এবেলা

তীব্র গরমে রাতভর এসি আর ফ্যানের হাওয়ায় নাক গলা শুকিয়ে কাঠ, জেনে নিন বাঁচার উপায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে রাতের বেলাতেও স্বস্তি মিলছে না জনজীবনে। গরমে রাতের অস্বস্তি এখন কেবল ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না, বরং তা রূপ নিচ্ছে শারীরিক নতুন শত্রুতে। সারারাত এসি বা ফ্যানের তীব্র হাওয়ায় থাকার ফলে নাক ও গলার স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের এই ধারায় অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠে গলা শুষ্কতা, নাক বন্ধ, কাশি কিংবা মাথাব্যথার মতো নানা জটিলতায় ভুগছেন, যাকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এক ধরণের ‘ড্রাই ট্র্যাপ’।

কেন বাড়ছে শ্বাসনালির এই নীরব সংকট

নাক ও গলার ভেতরে থাকা মিউকাস স্তরটি মূলত ধুলোবালি, অ্যালার্জেন এবং নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস আটকে রেখে শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করে। তবে অতিরিক্ত গরম এবং শরীরে জলের ঘাটতির কারণে এই মিউকাস স্তরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা এসি চলা বা সরাসরি মুখের ওপর ফ্যানের হাওয়া লাগার ফলে ঘরের ভেতরের আর্দ্রতা একেবারে কমে যায়। শুষ্ক বাতাস শ্বাসনালিকে আরও শুষ্ক করে তোলে, যা প্রকারান্তরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাতভর নাক শুকিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য হন, যা গলাকে আরও শুষ্ক করে তোলে এবং নাক ডাকা বা অনিদ্রার সমস্যা তৈরি করে।

ঝুঁকি ও সুরক্ষায় করণীয়

এই পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ, সাইনাস ও অ্যাজমা রোগীদের পাশাপাশি যারা কম জল পান করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে অল্প অল্প করে জল পান করে শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে। ঘরের এসি অতিরিক্ত কম তাপমাত্রায় না চালিয়ে সহনীয় মাত্রায় রাখা এবং সরাসরি মুখের ওপর ফ্যানের হাওয়া এড়িয়ে চলা জরুরি। প্রয়োজনে ঘরের শুষ্কতা কমাতে হিউমিডিফায়ার বা নাকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শে স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রাতের এই গরমকে অবহেলা করলে শরীরের ভেতরে বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই যদি তীব্র গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, জ্বর কিংবা নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *