ফলতায় উড়ছে গেরুয়া আবির, তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে মাঠ ফাঁকা পেয়ে রেকর্ড মার্জিনের পথে বিজেপি – এবেলা

ফলতায় উড়ছে গেরুয়া আবির, তৃণমূলের অনুপস্থিতিতে মাঠ ফাঁকা পেয়ে রেকর্ড মার্জিনের পথে বিজেপি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ভোটগণনায় প্রত্যাশামতোই একতরফা আধিপত্য বিস্তার করেছে বিজেপি। রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনার চতুর্থ রাউন্ড শেষে ১৪ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে গিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। প্রথম রাউন্ড থেকেই নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান তিনি। তবে এই লড়াইয়ে চমকপ্রদভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বামেরা।

ভোটের মাত্র দু’দিন আগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নাটকীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোয় ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায়। রাজ্যের শাসক দলের এই সিদ্ধান্তের পর বিজেপির জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা ছিল। গণনাকেন্দ্রের ট্রেন্ড অনুযায়ী, চতুর্থ রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী ২৫,৪৩৮টি ভোট পেয়ে ১৪,০৯৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

তৃণমূলের ময়দান ত্যাগ ও ভোটের সমীকরণ

গত ২১ মে ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তৃণমূল প্রার্থীর অনুপস্থিতিতে বিজেপির সামনে মাঠ কার্যত খোলাই ছিল। জাহাঙ্গির খান সরে যাওয়ার পর ময়দানে মূলত পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে বিজেপি ছাড়াও ছিল সিপিআইএম ও কংগ্রেস। রাজনৈতিক মহলের নজর ছিল, শাসক দলহীন এই নির্বাচনে বিরোধীরা পদ্ম শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে কতটা থাবা বসাতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফলতার প্রায় ৮৭ শতাংশ ভোটার এই পুনর্নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ভোটের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ক্ষমতার পালাবদলের হাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের এই পিছু হঠার ঘটনা ফলতায় বিজেপির পথ আরও মসৃণ করেছে। শাসক দলের কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ভোট ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণেই বিজেপির এই বিপুল লিড নিশ্চিত হয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের দাবি, ফলতায় কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই ছিল না এবং তৃণমূল কর্মীরা আগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। এই ফলাফলের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই অঞ্চলে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি যেমন আরও মজবুত হবে, তেমনই তৃণমূলের ভোট বয়কটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অন্দরে নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, বামেদের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির বৃত্তে এক নতুন বার্তা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *