বিধানসভা ও পুরসভায় নজিরবিহীন সংঘাত, মেঝেতে ও বারান্দায় অধিবেশন সারল তৃণমূল – এবেলা

বিধানসভা ও পুরসভায় নজিরবিহীন সংঘাত, মেঝেতে ও বারান্দায় অধিবেশন সারল তৃণমূল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হলো এক চরম নজিরবিহীন দৃশ্য। একদিকে তালাবন্ধ কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষের বাইরে ক্লাবহাউসেই বসাতে হলো কাউন্সিলরদের বৈঠক, অন্যদিকে বিধানসভার অন্দরে মেঝেতে বসেই বিক্ষোভে শামিল হলেন বিরোধী বিধায়করা। শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চরম টানাপোড়েনে শুক্রবার কার্যত অচল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক কেন্দ্র।

তালাবন্ধ পুরসভা, বৈঠক ক্লাবহাউসে

শুক্রবার কলকাতা পুরসভার পূর্বনির্ধারিত মাসিক অধিবেশন থাকলেও, মূল অধিবেশন কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের নেতৃত্বে বাধ্য হয়ে ক্লাব রুমেই অধিবেশনের কাজ শুরু করেন তৃণমূলের কাউন্সিলররা। পর্যাপ্ত আসন বিন্যাস না থাকায় নিজেরাই চেয়ার-টেবিল গুছিয়ে নিয়ে বৈঠক পরিচালনা করেন তারা। এই ঘটনাকে অত্যন্ত অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, গণতন্ত্রের স্বার্থে তাদের এই লড়াই চলবে। পাশাপাশি সংঘাতের পথ পরিহার করে সহযোগিতার মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজকর্ম চালানোর জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সামনেই বর্ষা মরশুম থাকায় জল জমা বা যেকোনো বিপর্যয়ের মোকাবিলায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেন মেয়র।

বিধানসভার মেঝেতে বিরোধী বিধায়কদের বিক্ষোভ

একই দিনে উত্তাপ ছড়ায় বিধানসভা চত্বরেও। বিরোধী দলনেতা হিসেবে এখনও কোনো নির্দিষ্ট ঘর বরাদ্দ না পাওয়ায় বিধানসভার মেঝেতে বসেই বিক্ষোভ দেখান শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক। ক্ষোভ প্রকাশ করে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, অতীতে কোনো স্পিকারের আমলেই এমন নিয়ম ছিল না। এবার অগণতান্ত্রিকভাবে বিরোধী দলনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচনের জন্য চিঠি দেওয়ার নিয়ম করা হলেও, দলীয় নেত্রীর নির্দেশে তারা সেই চিঠি জমা দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও স্পিকারের অনুপস্থিতির দোহাই দিয়ে তাদের জন্য ঘর খুলে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধায়ক কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলকে নুন্যতম সম্মান দিতে নারাজ।

সংঘাতের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর বণ্টন নিয়ে জটিলতা এবং পুরসভার অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকাকে কেন্দ্র করেই এই নজিরবিহীন সংঘাতের সূত্রপাত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক ও বিরোধী পক্ষের এই তীব্র সংঘাতের জেরে ব্যাহত হতে পারে পুরসভার স্বাভাবিক নাগরিক পরিষেবা। বিশেষ করে বর্ষার প্রাক্কালে কলকাতার পুর-পরিষেবা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ধাক্কা খেলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হতে পারেন। একই সাথে বিধানসভার এই অচলাবস্থা রাজ্যের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *