ভুয়ো কার্ড রুখতে রেশন ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল! বার্ষিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ল এক ধাক্কায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লির রেশন বন্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবং প্রকৃত দুস্থদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেজরিওয়াল প্রশাসন। বৃহস্পতিবার এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লিতে রেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক বার্ষিক আয়ের ঊর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, দীর্ঘ অডিটের পর রাজধানী জুড়ে প্রায় পৌনে আট লক্ষ ভুয়ো ও অবৈধ রেশন কার্ড বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এক ধাক্কায় বাড়ল আয়ের ঊর্ধ্বসীমা
এতদিন পর্যন্ত দিল্লিতে বছরে ১.২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়সম্পন্ন পরিবারগুলিই রেশনের আওতায় আসত। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবং গরিব মানুষদের আরও বেশি করে এই পরিষেবার আওতায় আনতে এই আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে বার্ষিক ২.৫ লক্ষ টাকা করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লির একটি বড় অংশের নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার নতুন করে সরকারি রেশন সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। আগামী ক্যাবিনেট বৈঠকেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
কেন এই বিপুল পরিমাণ কার্ড বাতিল
দীর্ঘ ১৩ বছর পর দিল্লিতে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় অডিট বা সমীক্ষা চালায় রাজ্য সরকার। আর তাতেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অডিট রিপোর্টের ভিত্তিতে মোট ৭.৭২ লক্ষ অবৈধ ও ভুয়ো রেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আয়ের যোগ্যতা বা শর্ত পূরণ না করায় ১ লক্ষ ৪৪ হাজার উপভোক্তার নাম বাদ পড়েছে। এছাড়া ৩৫ হাজার ৮০০ জন এমন গ্রাহকের নাম মিলেছে যারা কোনোদিন রেশন তোলেননি। পাশাপাশি, ২৯ হাজার ৫৮০ জন মৃত ব্যক্তির নাম এবং ২৩ হাজার ৩৯৪টি ডুপ্লিকেট বা নকল রেশন কার্ড চিহ্নিত করে তা বাতিল করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও নতুন আবেদনের সুযোগ
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন ভুয়ো উপভোক্তাদের চিহ্নিত করে সরকারি চাল-গমের কালোবাজারি ও অপচয় রুখে দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে সরকারের বিপুল রাজস্ব সাশ্রয় হবে। এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ এবং শূন্য হওয়া আসনগুলির বিপরীতে প্রকৃত ও বৈধ গ্রাহকরা নতুন করে রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। সরকারের লক্ষ্য, আয়ের সীমা বাড়ানোর ফলে যেন দিল্লির একজন অভাবী মানুষও এই খাদ্য সুরক্ষা পরিকল্পনা থেকে বঞ্চিত না হন।
