মরশুমের প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত অর্জুনের, ছেলের পারফরম্যান্সে গর্বিত শচীন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি মরশুমের প্রথম ১৩টি ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বেঞ্চে বসেই কাটাতে হয়েছিল তাঁকে। দলের একের পর এক বিপর্যয় দেখলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি অর্জুন তেণ্ডুলকর। অবশেষে মরশুমের একেবারে শেষ লগ্নে এসে, একটি গুরুত্বহীন ম্যাচে লখনউয়ের জার্সিতে অভিষেক হলো তাঁর। আর প্রথম সুযোগেই বল হাতে নিজের জাত চেনালেন এই তরুণ অলরাউন্ডার। অর্জুনের এই লড়াকু মানসিকতা ও নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন ক্রিকেটের ঈশ্বর তথা বাবা শচীন তেণ্ডুলকর।
বল হাতে লখনউ শিবিরে স্বস্তি
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স থেকে ৩০ লক্ষ টাকায় লখনউ সুপার জায়ান্টসে ট্রেড হয়ে আসা অর্জুন শনিবার পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে লোয়ার অর্ডার অলরাউন্ডারের ভূমিকায় মাঠে নামেন। ব্যাট হাতে মাত্র ৫ বল খেলে সিনিয়র ব্যাটারকে স্ট্রাইক দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও, আসল চমক দেখিয়েছেন বল হাতে। যেখানে মহম্মদ শামি, প্রিন্স যাদব বা মহসিন খানের মতো অভিজ্ঞ বোলাররা ওভার প্রতি ১১ থেকে ১২ রান খরচ করেছেন, সেখানে অর্জুন ৪ ওভারে মাত্র ৩৬ রান দিয়ে তুলে নেন সেট ব্যাটার প্রভসিমরন গিলের উইকেট। পাওয়ারপ্লে এবং ডেথ ওভারের মতো কঠিন সময়ে বল করেও ওভার প্রতি মাত্র ৯ রান দিয়ে লখনউয়ের বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দেন তিনি। ম্যাচে তাঁর গতিও ছিল চোখে পড়ার মতো, যা নিয়মিত ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার স্পর্শ করেছে।
ধৈর্য ও দক্ষতার ফল
দীর্ঘদিন দলের বাইরে থেকেও যেভাবে অর্জুন নিজের লাইন, লেংথ এবং নিখুঁত ইয়র্কার নিয়ে কাজ করে গেছেন, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠের পারফরম্যান্সে। ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত পিতা শচীন তেণ্ডুলকর সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, পুরো মরশুমে যেভাবে অর্জুন নিজেকে সামলে রেখে ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শচীনের মতে, ক্রিকেট শুধু দক্ষতার নয়, ধৈর্যেরও পরীক্ষা নেয় এবং অর্জুন আজ দুটি পরীক্ষাতেই সফল হয়েছেন।
অভিষেক ম্যাচেই অর্জুনের এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর ক্রিকেট মহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, লখনউ ম্যানেজমেন্ট যদি মরশুমের শুরু থেকে এই তরুণ পেসারকে সুযোগ দিত, তবে হয়তো দলের সামগ্রিক ফলাফল অন্যরকম হতে পারত। দেরিতে হলেও অর্জুনের এই প্রত্যাবর্তন আগামী মরশুমের জন্য তাঁর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল।
