মাতৃত্বের অধিকার ও দেশের সম্মানকে কাঠগড়ায় তোলায় কুস্তি ফেডারেশনকে নজিরবিহীন ধমক দিল আদালত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের তারকা কুস্তিগির বিনেশ ফোগাটকে এশিয়ান গেমসের ট্রায়াল থেকে দূরে রাখার সব চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ করে দিল দিল্লি হাই কোর্ট। ফেডারেশনের নতুন নিয়ম এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে আদালত সাফ জানিয়েছে, বিনেশের ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শুনানির সময় ডব্লিউএফআই-এর (রেসলিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া) ভূমিকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে বিচারক প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে কেন ভারতীয় কুস্তির ক্ষতি করা হচ্ছে? একই সঙ্গে বিনেশের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম বদলের অন্তরালে বঞ্চনার অভিযোগ
বিতর্কের সূত্রপাত কয়েক সপ্তাহ আগে, যখন ডব্লিউএফআই আচমকা এশিয়ান গেমস ট্রায়ালের যোগ্যতার নিয়ম বদলে দেয়। নতুন নিয়মে বলা হয়, কেবল ২০২৫ ও ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিযোগিতার পদকজয়ীরাই ট্রায়ালে অংশ নিতে পারবেন। প্যারিস অলিম্পিকের দুর্ভাগ্যজনক ডিসকোয়ালিফিকেশনের পর বিনেশ মাতৃত্বকালীন বিরতিতে ছিলেন এবং কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি। ফলে এই হঠাৎ বদলে যাওয়া নিয়মে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে পড়েন। ফেডারেশনের এই রহস্যজনক পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত মন্তব্য করেছে, পুরনো নির্বাচননীতি থেকে এই আকস্মিক সরে আসা ‘অনেক কিছুই বলে দিচ্ছে’। বিনেশের প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে আদালত স্পষ্ট ভাষায় স্মরণ করিয়ে দেয়, ‘এ দেশে মাতৃত্বকে সম্মান করা হয়।’
ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও ব্রিজভূষণ-ইস্যুর ছায়া
বিনেশ ফোগাট দীর্ঘদিন ধরেই ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখার পদ্ধতিগত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে আসছেন। জাতীয় ওপেন র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে নাম নথিভুক্ত করার সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও, তাঁর ক্ষেত্রে আগেই পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ব্যাপক সমালোচনার পর শেষ দিনে তাঁর নাম নথিভুক্ত করা হলেও ফেডারেশনের শীর্ষ নেতৃত্ব একে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করে। এর আগেও ফেডারেশন কাপের আগে শেষ মুহূর্তে নির্বাচননীতি বদল করা হয়েছিল।
এই সংঘাতের শিকড় অবশ্য আরও গভীরে। প্রাক্তন ফেডারেশন কর্তা ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার আন্দোলনে অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন বিনেশ। সম্প্রতি এক ভিডিওবার্তায় তিনি প্রকাশ করেন যে, অভিযোগকারী ছয় মহিলা কুস্তিগিরের মধ্যে তিনিও একজন। ব্রিজভূষণ সরে গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় সিং দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলায়নি বলেই ক্রীড়ামহলের দাবি। মূলত এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে বিনেশের কামব্যাক রুখতেই ধারাবাহিকভাবে এই মানসিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। আদালতের এই কড়া হস্তক্ষেপের পর এখন দেখার, ফেডারেশন তাদের একগুঁয়েমি থেকে সরে আসে নাকি এই সংঘাত আরও জটিল রূপ নেয়।
