মানিব্যাগের ডেবিট কার্ডেই লুকিয়ে আছে লাখ লাখ টাকার বিমা সুবিধা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আপনার পকেটে থাকা সাধারণ প্লাস্টিকের কার্ডটি যে বিপদের দিনে রক্ষাকবচ হয়ে উঠতে পারে, তা হয়তো আপনি কল্পনাও করেননি। ভারতের কোটি কোটি ব্যাঙ্ক গ্রাহক আজও জানেন না যে, একটি ডেবিট কার্ড বা এটিএম কার্ড থাকলে গ্রাহক স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষাধিক টাকার বিনামূল্যে দুর্ঘটনা বিমা (Accidental Insurance) পেয়ে যান। এর জন্য আপনাকে আলাদা করে কোনো প্রিমিয়াম জমা দিতে হয় না বা কোনো ফর্ম পূরণ করতে হয় না। কেবল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলেই আপনি এই ‘হিডেন’ বা গোপন সুবিধার অংশীদার।
কার্ডের ধরন অনুযায়ী বিমার অংক
আপনার কাছে কোন ক্যাটাগরির কার্ড রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই বিমার অঙ্ক নির্ধারিত হয়। সাধারণত ব্যাঙ্কগুলি ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কভার দিয়ে থাকে।
- ক্লাসিক বা সাধারণ কার্ড: এই কার্ডে সাধারণত ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা কভার পাওয়া যায়।
- প্লাটিনাম বা ভিসা কার্ড: এই কার্ডের গ্রাহকরা ২ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা পান।
- রুপে (RuPay) কার্ড: বিশেষ করে জনধন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বিমা পাওয়া যায়।
- প্রিমিয়াম কার্ড: কিছু বিশেষ এবং হাই-ভ্যালু কার্ডের ক্ষেত্রে এই বিমার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিমা সক্রিয় রাখার প্রধান শর্ত
বিনামূল্যে এই বিমা পাওয়ার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো কার্ডটি ‘অ্যাক্টিভ’ বা সচল থাকা। নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনার তারিখ থেকে আগের ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে ওই কার্ডটি ব্যবহার করে অন্তত একটি সফল লেনদেন (এটিএম থেকে টাকা তোলা বা অনলাইন শপিং) হওয়া বাধ্যতামূলক। যদি কার্ডটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা হয়, তবে বিমার দাবি বা ক্লেম খারিজ হয়ে যেতে পারে।
ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হলেও সুরক্ষিত আপনার টাকা
শুধুমাত্র দুর্ঘটনা বিমা নয়, আপনার জমানো টাকার সুরক্ষাতেও কড়া নিয়ম রয়েছে। যদি কোনো কারণে আপনার ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়ে যায়, তবুও গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আরবিআই (RBI)-এর অধীনস্থ সংস্থা ডিআইসিজিসি (DICGC)-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক আমানতকারীর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জমা (আসল ও সুদসহ) সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।
জনধন অ্যাকাউন্টে বিশেষ উপহার
প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার (PMJDY) অধীনে খোলা অ্যাকাউন্টের গ্রাহকদের জন্য সরকার বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। এতে ২ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বিমার পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ৩০ হাজার টাকার জীবন বিমাও (Life Cover) পাওয়া যায়।
বিপদের সময় ক্লেম করার সঠিক পদ্ধতি
যদি কার্ডধারীর সাথে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তবে তার পরিবার বা নমিনিকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।
- ব্যাঙ্ককে জানানো: দুর্ঘটনার ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের হোম ব্রাঞ্চে গিয়ে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
- প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ: পুলিশের এফআইআর (FIR)-এর কপি, হাসপাতালের রিপোর্ট বা ডেথ সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হবে।
- লেনদেনের প্রমাণ: কার্ডটি সচল ছিল তা প্রমাণ করতে গত ৩ মাসের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।
- নমিনির নথি: নমিনির কেওয়াইসি (KYC) নথি যেমন আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং একটি ক্যান্সেল চেক প্রয়োজন হবে।
- ফর্ম জমা: ব্যাঙ্কের দেওয়া নির্দিষ্ট ক্লেম ফর্মে সব নথিপত্র সংযুক্ত করে জমা দিতে হবে।
সচেতনতাই আসল সুরক্ষা। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে সাধারণ মানুষ এই বিশাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাই নিজের পরিবারকে এই বিমা কভার সম্পর্কে জানিয়ে রাখুন এবং কার্ডটি সচল রাখতে মাসে অন্তত একটি ছোট লেনদেন নিশ্চিত করুন।

