মায়ের অস্ত্রোপচারের দিনে পাশে থাকার অনুমতি, অবশেষে ৩ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন উমর খালিদ – এবেলা

মায়ের অস্ত্রোপচারের দিনে পাশে থাকার অনুমতি, অবশেষে ৩ দিনের অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন উমর খালিদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদের অন্তর্বর্তী জামিনের আর্জি আংশিক মঞ্জুর করল দিল্লি হাই কোর্ট। অসুস্থ মায়ের অস্ত্রোপচারের সময় পরিবারের পাশে থাকার জন্য ১৫ দিনের জামিন চেয়েছিলেন তিনি। তবে আদালত তাঁর তিন দিনের অন্তর্বর্তী জামিন অনুমোদন করেছে। আগামী ১ জুন থেকে ৩ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে কারাগারের বাইরে থাকতে পারবেন উমর। আগামী ৪ জুন তাঁকে পুনরায় জেলে ফিরতে হবে।

আবেদনের পটভূমি ও আদালতের সিদ্ধান্ত

পারিবারিক সংকটের কারণ দর্শিয়ে গত ২২ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন উমর খালিদ। তাঁর ৬২ বছর বয়সি মা দীর্ঘদিন ধরে পিঠের সিস্টের সমস্যায় ভুগছেন এবং আগামী ২ জুন তাঁর অস্ত্রোপচারের দিন ধার্য করা হয়েছে। একমাত্র সন্তান হিসেবে এই কঠিন সময়ে অসুস্থ মায়ের পাশে থাকা এবং বৃদ্ধ বাবাকে সাহায্য করার মানবিক আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি, সম্প্রতি প্রয়াত এক কাকার শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া এবং ৮৭ বছর বয়সি দিদার পাশে থাকার ইচ্ছার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ১৯ মে নিম্ন আদালত উমরের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মায়ের দেখাশোনার জন্য অন্য লোক রয়েছে এবং কাকা তাঁর অতি নিকটাত্মীয় নন। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন উমর। তিনি যুক্তি দেন, বিগত বছরগুলোতে (২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সাল) পারিবারিক কারণে পাওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের সমস্ত শর্ত তিনি কঠোরভাবে মেনে চলেছেন এবং যথাসময়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। সেই সওয়াল-জবাবের ভিত্তিতেই উচ্চ আদালত এই তিন দিনের জামিন মঞ্জুর করে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০২০ সালে দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত উমর খালিদ। এই সহিংসতার মামলায় অন্য অনেক অভিযুক্ত ইতিমধ্যে জামিন পেলেও, উমর খালিদের নিয়মিত জামিনের আবেদন দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত নাকচ হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি বন্দিজীবনের মাঝে এই তিন দিনের সাময়িক স্বস্তি উমরের জন্য সম্পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত রায়ের ক্ষেত্রে বা মূল মামলার গতিপ্রকৃতিতে এই সংক্ষিপ্ত অন্তর্বর্তী জামিন সরাসরি কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু বিচারব্যবস্থায় বন্দির পারিবারিক ও মানবিক অধিকারের বিষয়টিকে আদালত যেভাবে খতিয়ে দেখেছে, তা আইনি প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *