লালবাড়িতে নজিরবিহীন নাটক, বন্ধ কক্ষের বাইরে ভিজিটার্স রুমেই বসল পুরসভার অধিবেশন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা পুরসভায় তৈরি হলো এক নজিরবিহীন ও চরম নাটকীয় পরিস্থিতি। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আকস্মিকভাবে মাসিক অধিবেশন বাতিল করার ঘোষণা দিলেও, তার পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। শাসকদল তৃণমূলের কাউন্সিলরদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতির নির্দেশ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরসভার বন্ধ কক্ষের বাইরে, ভিজিটার্স রুমেই সম্পন্ন হলো অধিবেশন। তবে এই ক্ষুব্ধ পরিস্থিতির মাঝেও দলের ৫০ জনেরও বেশি কাউন্সিলরের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সচিবের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও গণতন্ত্রের অবমাননার অভিযোগ
হঠাৎ করে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে অধিবেশন বাতিল করার এই সিদ্ধান্তকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং চেয়ারপার্সন মালা রায়। ফিরহাদ হাকিম সাফ জানিয়েছেন, অধিবেশন ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। যদি বাতিল করতেই হয়, তবে সেই একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র চেয়ারপার্সনের, সচিবের নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অধিবেশন বাতিলের পর কলকাতায় কোনো বিপর্যয় ঘটলে তার দায় কে নেবে? এই সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের অপমান’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, অধিবেশন না হলে পুর-পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা আসাম্ভব।
একই সুরে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মালা রায় জানান, আইন মোতাবেক অধিবেশন ডাকার ক্ষমতা কেবল চেয়ারপার্সনেরই রয়েছে। চিরাচরিত এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেন এবং কার নির্দেশে কোনো আলোচনা ছাড়াই অধিবেশন বন্ধ রাখা হলো, তা জানতে চেয়ে তিনি সেক্রেটারিকে চিঠি পাঠিয়েছেন।
দলের অন্দরেই চওড়া হচ্ছে ফাটল?
এই নজিরবিহীন সংঘাতের মাঝে আরেকটি বিষয় বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। চেয়ারপার্সনের কড়া বার্তা থাকা সত্ত্বেও ১৩৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে মাত্র ৮৬ জন এদিন হাজির ছিলেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৫০ জনের কাছাকাছি কাউন্সিলর। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি অধিবেশনে এত বিপুল সংখ্যক কাউন্সিলরের গরহাজির থাকা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। প্রশাসনের এই আকস্মিক সংঘাতের প্রভাব যেমন পুর-পরিষেবার ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তেমনই শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ফাটলের জল্পনাকেও এটি আরও উসকে দিল।
