স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপ নিল হিমাচলের অনন্য কুম্ভ শিব মন্দির! – এবেলা

স্বপ্ন থেকে বাস্তবে রূপ নিল হিমাচলের অনন্য কুম্ভ শিব মন্দির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হিমাচল প্রদেশের শান্ত পাহাড়ি চিল স্টেশন ‘চইল’-এ অবস্থিত কুম্ভ শিব মন্দির পর্যটক ও স্থাপত্যপ্রেমীদের মধ্যে নতুন এক বিস্ময় জাগিয়েছে। সম্পূর্ণ ধূসর রঙের এই মন্দিরটির নির্মাণশৈলী প্রচলিত অন্যান্য দেবালয় থেকে একদম আলাদা। কোনো কৃত্রিম রঙের ছোঁয়া ছাড়াই কেবল সিমেন্ট এবং ধাতব তার ব্যবহার করে এক অভিনব ‘অ্যাবস্ট্র্যাক্ট আর্ট’ বা বিমূর্ত শিল্পকলায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মহাদেবের জটা, পেঁচিয়ে থাকা সাপ এবং দেব চরণে অর্পিত গাঁদা ফুল। মন্দিরের একেবারে চূড়ায় ধাতব তার দিয়ে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘টেম্পল ইন মাই ড্রিম’ বা ‘আমার স্বপ্নে দেখা শিব মন্দির’।

স্বপ্নের টানে ৩৮ বছরের একক সাধনা

এই অনন্য স্থাপত্যের নেপথ্যে রয়েছে শিল্পী সত্য ভূষণের দীর্ঘ ৩৮ বছরের একক প্রচেষ্টা ও কৃচ্ছসাধন। ১৯৮০ সালে স্বপ্নে দেখা এক অলৌকিক শিব মন্দিরের রূপকে বাস্তবে রূপ দিতেই তিনি এই কর্মযজ্ঞ শুরু করেন। বিদ্যালয় জীবনে শেখা মাটি ও কাঠের মূর্তি তৈরির অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে, সমাজ ও স্থানীয় মানুষের প্রাথমিক উপহাস উপেক্ষা করেই তিনি কাজ চালিয়ে যান। নিজের জমানো পুঁজি দিয়ে জমি ও নির্মাণ সামগ্রী কিনে দীর্ঘ সময় ধরে একাই দিনরাত এক করে মন্দিরটি গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে এই সৃষ্টির কথা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষ ও দর্শনার্থীরা আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন, যার ফলে বর্তমান সময় পর্যন্ত মন্দিরটি নির্মাণে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে একা, ষাটোর্ধ এই বর্ষীয়ান শিল্পী বর্তমানে মন্দিরের অনতিদূরেই বসবাস করেন এবং কোনো দর্শনার্থীর আগমন ঘটলেই স্বউদ্যোগে মন্দিরের আলো, জলের ফোয়ারা ও আবহসংগীত চালু করে তাঁদের স্বাগত জানান।

পর্যটনে নতুন মাত্রা ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রতি বছর হিমাচল প্রদেশে আগত প্রায় দেড় কোটি পর্যটকের কাছে এই চইল হিল স্টেশনের কুম্ভ শিব মন্দিরটি এক নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠছে। প্রথাগত মন্দিরের বাইরে গিয়ে একজন শিল্পীর আজীবন সাধনা এবং ভিন্নধর্মী স্থাপত্যশৈলী দেখার আগ্রহ হিমাচলের পর্যটন শিল্পে এক নতুন ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূল ধারার ভ্রমণ তালিকায় এই মন্দিরের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে আগামী দিনে চইল অঞ্চলে পর্যটকদের সমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *