‘৫০ বছরের ধ্বংসলীলা শেষ হবে’— সীতারমনের সঙ্গে বৈঠকের পর ‘সোনার বাংলা’র রূপরেখা শমীকের – এবেলা

‘৫০ বছরের ধ্বংসলীলা শেষ হবে’— সীতারমনের সঙ্গে বৈঠকের পর ‘সোনার বাংলা’র রূপরেখা শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লিতে নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে শমীকের মেগা বৈঠক, বদলাবে বাংলার অর্থনৈতিক খোলনলচে

রাজ্যের বকেয়া কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আদায় এবং সার্বিক অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম বড়সড় হাই-প্রোফাইল বৈঠক, যা বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অলিন্দে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিন দিনের দিল্লি সফরে গিয়ে শমীকবাবুর এই বৈঠক মূলত পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই আয়োজিত হয়েছিল।

বকেয়া তহবিল পুনরুদ্ধার ও বস্ত্রশিল্পে জোর

সূত্রের খবর, এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে থমকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার কেন্দ্রীয় বকেয়া তহবিল পুনরুদ্ধার করা। পূর্বতন জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নামবদল এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে ছিল, তা দ্রুত ছাড়ার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে জানান যে, নতুন প্রশাসন ইতিমধ্যেই পূর্বতন সরকারের প্রশাসনিক ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং ব্যবস্থাগত অনিয়ম সংশোধনের কাজ শুরু করে দিয়েছে। পাশাপাশি, বাংলার অর্থনৈতিক খোলনলচে বদলে ফেলতে এরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী হস্তচালিত তাঁতশিল্পের (হ্যান্ডলুম) পুনরুজ্জীবন এবং নতুন টেক্সটাইল হাব বা বস্ত্রশিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

ফলপ্রসূ এই আলোচনার পরও কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, বকেয়া অর্থ রিলিজ এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নির্মলা সীতারামনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরেই। বৈঠক শেষে শমীক ভট্টাচার্য বিগত পাঁচ দশকের বাম-তৃণমূল জমানাকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, গত ৫০ বছরে সুপরিকল্পিতভাবে বাংলার শিল্পব্যবস্থাকে ধ্বংস করে এরাজ্যকে পরিযায়ী শ্রমিকের আঁতুড়ঘরে পরিণত করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক বা তামিলনাড়ুর মতো উন্নত রাজ্যগুলির সমকক্ষ করে তুলতে বাংলাকে এই বৃত্ত থেকে বের করে আনাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল হিসেবে জল জীবন মিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

এক ঝলকে

  • কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বকেয়া বরাদ্দ ও বাংলার অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন নিয়ে বৈঠক করলেন শমীক ভট্টাচার্য।
  • পূর্বতন সরকারের অনিয়ম সংশোধন করে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় তহবিল দ্রুত চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
  • বাংলার তাঁতশিল্পের পুনরুজ্জীবন এবং নতুন টেক্সটাইল হাব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
  • আর্থিক প্যাকেজ ও বকেয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *