লেটেস্ট নিউজ

প্রত্যেক পাপীরই একটা ভবিষ্যৎ আছে, দুই অপরাধীর সাজা কমিয়ে মানবিক কর্নাটক হাইকোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

জালিয়াতির অন্ধকার জগৎ থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক অনন্য সুযোগ করে দিল আদালত। জাল এটিএম কার্ড তৈরি করে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই ব্যক্তির সাজায় বড়সড় সংশোধন আনল কর্নাটক হাইকোর্টের ধারওয়াড় বেঞ্চ। মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ভি শ্রীশানন্দ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “মনে রাখবেন, প্রত্যেকটি পাপীরই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ থাকে। অপরাধকে ঘৃণা করুন, অপরাধীকে নয়।”

ঘটনার নেপথ্যে যা ছিল

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা আসল এটিএম কার্ডের তথ্য চুরি করে অত্যন্ত কৌশলে তার প্রতিলিপি বা ডুপ্লিকেট কার্ড তৈরি করত। এরপর সেই ভুয়া কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ লুট করত তারা। নিম্ন আদালত এই অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে দুই অভিযুক্তকে যথাক্রমে ৩ এবং ২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন সাজাপ্রাপ্তরা।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মানবিক সিদ্ধান্ত

বিচারপতি ভি শ্রীশানন্দ মামলার তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে স্পষ্ট জানান যে, অভিযুক্তরা যে জালিয়াতি করেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মানুষের ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড চুরি করেছেন। কিন্তু সাজা কমানোর ক্ষেত্রে আদালত কয়েকটি মানবিক দিক বিবেচনা করেছে:

  • অভিযুক্তরা আগে কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না অর্থাৎ তারা প্রথমবার অপরাধ করেছেন।
  • প্রথম আবেদনকারীর ঘরে এক তরুণী স্ত্রী এবং মাত্র দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে, যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার কাঁধেই।
  • মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা তদন্তকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।

এই দিকগুলো বিবেচনা করে বিচারপতি নির্দেশ দেন, অভিযুক্তরা ইতিমধ্যেই জেলে যতটা সময় কাটিয়েছেন, সেটুকুই তাদের চূড়ান্ত কারাদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, অবিলম্বে তাদের জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

জরিমানার কঠোর শর্ত ও ক্ষতিপূরণ

সাজা কমিয়ে দিলেও অপরাধের দায় থেকে তাদের সম্পূর্ণ মুক্তি দেয়নি আদালত। বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন যে:

১. আগামী ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে দুই অপরাধীকে ট্রায়াল কোর্টে ২ লক্ষ টাকা করে জমা দিতে হবে।

২. যদি তারা এই অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের আগের পূর্ণ মেয়াদের সাজা খাটতে হবে এবং অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

৩. সংগৃহীত জরিমানার টাকা থেকে জালিয়াতির শিকার হওয়া তিন ভুক্তভোগীকে যথাক্রমে ৫০ হাজার, ৫০ হাজার এবং ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে কঠোর অবস্থান নিলেও, একজন অপরাধীর সংশোধনের পথ খোলা রাখার এই রায় বিচারব্যবস্থার মানবিক মুখকেই আরও একবার তুলে ধরল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *