লেটেস্ট নিউজ

অসুস্থ মায়ের জন্য ছুটি চাইতে গিয়ে চরম হেনস্থা, ৫ বছরের সন্তানকে নিয়ে ডিকি অফিসের সামনে কাঁদছেন মহিলা কনস্টেবল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বস্তী, উত্তরপ্রদেশ: অসুস্থ মায়ের সেবার জন্য কয়েকদিনের ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অপরাধে জুটল অকথ্য গালিগালাজ, মারধরের হুমকি এবং চূড়ান্ত মানসিক লাঞ্ছনা। উত্তরপ্রদেশের বস্তী জেলায় খোদ কোতোয়াল বা থানা ইনচার্জের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন ২০১৯ ব্যাচের এক মহিলা কনস্টেবল। ন্যায়বিচারের আশায় ৫ বছরের দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে ডিআইজি অফিসের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ওই পুলিশকর্মী।

ঘটনার সূত্রপাত

মূলত গোরক্ষপুরের বাসিন্দা মেনকা চৌহান বর্তমানে বস্তী জেলার সদর কোতোয়ালিতে কর্মরত। তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় গত মঙ্গলবার তিনি থানা ইনচার্জ দিনেশ চন্দ্র চৌধুরীর কেবিনে ছুটির আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ছুটি দেওয়া তো দূরস্ত, আবেদনপত্র দেখা মাত্রই মেজাজ হারান কোতোয়াল। তিনি মহিলা কনস্টেবলকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং মারার জন্য তেড়ে আসেন। এমনকি নিজের দেহরক্ষীকে নির্দেশ দেন মহিলাকে পাকড়াও করার জন্য। প্রাণভয়ে কোনোমতে কেবিন থেকে বেরিয়ে আসেন মেনকা।

ডিআইজি দপ্তরে আর্তনাদ

ঘটনার পরের দিন বুধবার নিজের ৫ বছরের কন্যাসন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ডিআইজি সঞ্জীব ত্যাগীর দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা। নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিবরণ দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ডিআইজি অফিসের গেটে দাঁড়িয়ে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে মেনকা জানান, ছুটি তো পাননি বরং তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ডিউটিতে ‘অনুপস্থিত’ (Absent) দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, কোতোয়ালের কেবিনের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হবে।

কড়া পদক্ষেপ এসপি-র

ঘটনাটি জানাজানি হতেই জেলা পুলিশ মহলে তোলপাড় শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বস্তীর পুলিশ সুপার (এসপি) যশবীর সিং অভিযুক্ত কোতোয়াল দিনেশ চন্দ্র চৌধুরীকে তৎক্ষণাৎ পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এএসপি শ্যামকান্ত এবং সিও স্বর্ণিমা সিংকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *