গণইস্তফা আর বিক্ষোভের জেরে পুরবোর্ডে চরম অচলাবস্থা, বিধানসভার পালাবদলের পর তীব্র সংকটে রাজ্যের পুরসভাগুলি – এবেলা

গণইস্তফা আর বিক্ষোভের জেরে পুরবোর্ডে চরম অচলাবস্থা, বিধানসভার পালাবদলের পর তীব্র সংকটে রাজ্যের পুরসভাগুলি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পুরসভায় এই মুহূর্তে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে একের পর এক পুরবোর্ডে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। কোথাও কাউন্সিলরদের গণইস্তফা, কোথাও বকেয়া বেতনের দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ, আবার কোথাও দলীয় কোন্দল চরম রূপ ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের পদত্যাগ না করার আর্জি জানালেও, ডামাডোল থামার কোনো লক্ষণ নেই। এর মাঝেই দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের রহস্যমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

একের পর এক পুরসভায় গণইস্তফা ও বিক্ষোভ

উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর ও কাঁচরাপাড়া পুরসভায় কাউন্সিলরদের গণইস্তফার জেরে নাগরিক পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষসহ ১৬ জন কাউন্সিলর একসঙ্গে ইস্তফা দিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে ভাটপাড়া পুরসভাতেও, যেখানে ৩৫ জন কাউন্সিলরের মধ্যে চেয়ারপার্সন রেবা সাহাসহ ৩০ জনই পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগী উপ পুরপ্রধান দেবজ্যোতি ঘোষের দাবি, দলের পক্ষ থেকে কোনো গাইডলাইন বা সাহায্য না পাওয়ায় এবং পরিষেবা থমকে যাওয়ায় তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে, বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তর দমদম পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে বেনজির বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

কলকাতা পুরসভাতেও নজিরবিহীন সংকট

রাজ্যের অন্যতম প্রধান পুরনিগম কলকাতা পুরসভাতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। শুক্রবার হাউসের দরজা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে মেয়রের ঘরের বাইরে অধিবেশন বসাতে হয় মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ তৃণমূল কাউন্সিলরদের। এই ঘটনাকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চরম অপমান বলে উল্লেখ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই সামগ্রিক অচলাবস্থার মূল কারণ হলো রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন এবং তার জেরে পুরবোর্ডগুলির ওপর থেকে শাসকদলের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়া। বহু জায়গায় দুর্নীতি, তোলাবাজির অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সামনেই বর্ষা ঘনিয়ে আসায় এই প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। আবর্জনা অপসারণ এবং জমা জলের সমস্যা মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং বর্ষার আগে মানুষের সমস্যা সমাধানে ১৮ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ডিসেম্বরের মধ্যে হাওড়া পুরনিগমসহ বালি পুরসভায় গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন বোর্ড গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *