“কুরবানি নিয়ে মন্তব্য করতেই তোপ! হুমায়ুনকে সরাসরি দেশছাড়ার বার্তা অগ্নিমিত্রার” – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ধর্মীয় কারণে পশুনিধন নিষিদ্ধকরণ ঘিরে কি এবার বাংলা উত্তপ্ত হতে চলেছে? পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ধর্মাচরণের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন নওদার আমজনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অন্যদিকে, তাঁর এই আপত্তিকে কড়া ভাষায় উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে থাকতে হলে সরকারি নিয়ম মেনেই চলতে হবে, অন্যথায় দেশের বাইরে কোনো মুসলিম দেশে চলে যাওয়া যেতে পারে।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা
গত ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বিজেপি সরকার বেশ কিছু বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রকাশ্যে ধর্মীয় কারণে পশুবলি বা পশুনিধন রদ। আইনি অনুমোদন সাপেক্ষে গত ১৩ মে রাজ্য সরকার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আসন্ন বকরি ইদে প্রকাশ্যে পশু ‘কুরবানি’ দেওয়ার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতি বাধার মুখে পড়েছে। সংখ্যালঘু সমাজের একাংশের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত তাঁদের ধর্মাচরণ ও ঐতিহ্যে সরাসরি আঘাত হানছে।
পাল্টা যুক্তি ও রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি
সরকারি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানান, এ রাজ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ মুসলিম গোমাংসভোজী। কুরবানি একটি গভীর ধর্মীয় আবেগ ও প্রথা, যা রাতারাতি এভাবে বন্ধ করা যায় না। তাঁর যুক্তি, যদি কুরবানি বন্ধ করতেই হয়, তবে রাজ্যের সমস্ত কসাইখানাও বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
হুমায়ুন কবীরের এই বক্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কঠোর অবস্থান নিয়ে জানান, ভারতে বাস করতে হলে এদেশের নিয়মকানুন মেনেই চলতে হবে। আইন অমান্য করার মানসিকতা থাকলে দেশের বাইরে অন্য কোনো মুসলিম দেশে চলে যাওয়ার পথও খোলা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্যের সচেতনতা এবং আদালতের আইনি প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে সরকার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, এর পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক ও আদর্শগত কারণ রয়েছে। তবে উৎসবের ঠিক মুখে এই ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত রাজ্যে সামাজিক মেরুকরণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ এবং তার বিপরীতে শাসক শিবিরের কড়া অবস্থানের ফলে আগামী দিনে এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
