তৃণমূলের গণ-ইস্তফায় অচল বাংলার একাধিক পুরসভা, জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে শুভেন্দু সরকার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজ্যের পুরসভাগুলোতে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংকট। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর একের পর এক পুর বোর্ড থেকে কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করছেন। ভাটপাড়া, কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুর পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। কাঁচরাপাড়ার ২৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের মধ্যে ১৪ জনই একযোগে পদত্যাগ করায় সেখানকার পুর বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হয়েছে। এমনকি কলকাতা পুরনিগমের অন্দরেও তীব্র ডামাডোল শুরু হয়েছে, যার ফলে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই গণ-ইস্তফার জেরে নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
প্রশাসক বসিয়ে পরিষেবা সচল রাখার সিদ্ধান্ত
তৃণমূলের এই আকস্মিক পলায়ন ও অচলাবস্থা মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূলের চেয়ারম্যান কিংবা কাউন্সিলরদের ভরসায় হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না সরকার। জনস্বার্থে অবিলম্বে এই পুরসভাগুলোতে সরকারি প্রশাসক বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা কাজে ফিরলে একসঙ্গে কাজ করা হবে, আর তারা না এলেও প্রশাসকদের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবা সচল রাখা হবে। জনগণের দুর্ভোগ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অডিট
এই রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি বিদায়ী পুর বোর্ডগুলোর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে নতুন সরকার। অভিযোগ উঠেছে, বিগত দিনে বিপুল পরিমাণ অর্থের ভুয়া টেন্ডার ও ঘরে বসে সরকারি সুবিধা নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এই কোটি কোটি টাকার আর্থিক নয়ছয় খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পুরসভায় বিশেষ অডিট বা হিসাব পরীক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এই দুর্নীতির তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
