ভোট মিটলেও বিদায় নিচ্ছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী, নজিরবিহীনভাবে বাংলায় পাহাড়ায় ৫০০ কো ম্পা নি জোয়ান! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সাধারণত নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হতেই তল্পিতল্পা গুটিয়ে রাজ্য ছাড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু ২০২৬ সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী আবহে তৈরি হলো এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এবং নজিরবিহীন পরিস্থিতি। ভোট মিটে যাওয়ার পরও আগামী ২০ জুন পর্যন্ত এ রাজ্যেই থেকে যাচ্ছে বিশাল অঙ্কের কেন্দ্রীয় বাহিনী। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (এমএইচএ) সাম্প্রতিক একটি ফ্যাক্স বার্তার মাধ্যমে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে আগামী অক্টোবর মাস অর্থাৎ দুর্গাপুজো পর্যন্ত ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী রেখে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই সুদূরপ্রসারী আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আপাতত আগামী ২০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৫০০ কো ম্পা নি আধাসামরিক বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত আংশিক মঞ্জুর করেছে। এই নির্দেশিকার অনুলিপি ইতিমধ্যে রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও রাজ্য পুলিশ মহানির্দেশককে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিন্যাস ও মোতায়েনের রূপরেখা
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে যে ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় থেকে যাচ্ছে, তার একটি সুনির্দিষ্ট অভ্যন্তরীণ বিভাগীয় বিন্যাস রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বাহিনীতে সবচেয়ে বড় অংশটি থাকছে সিআরপিএফ-এর।
- সিআরপিএফ (CRPF): ২০০ কো ম্পা নি
- বিএসএফ (BSF): ১৫০ কো ম্পা নি
- সিআইএসএফ (CISF): ৫০ কো ম্পা নি
- আইটিবিপি (ITBP): ৫০ কো ম্পা নি
- এসএসবি (SSB): ৫০ কো ম্পা নি
দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অতীত ও বর্তমানের এক জটিল মিশ্রণ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলায় ব্যাপক ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় হয়। ২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই স্তরের বড় কোনো অশান্তি না ঘটলেও, জেলা স্তরে মারধর, ভীতিপ্রদর্শন ও হুমকির বেশ কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার মতো প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়েও রাজ্যের পুলিশকে সাধারণ মানুষের একাংশের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। সামগ্রিক এই আইনশৃঙ্খলার খতিয়ান বিবেচনা করেই রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে এই বাহিনী রাখার বিষয়ে সমঝোতা তৈরি হয়েছে।
ভোটের পরও দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই উপস্থিতি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রথমত, জেলা স্তরে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হবে এবং জোয়ানদের নিয়মিত রুটমার্চে জনমনে আত্মবিশ্বাস ফিরবে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর থেকে আইনশৃঙ্খলার বাড়তি চাপ কমবে, ফলে তারা দৈনন্দিন অপরাধ দমনে বেশি মনোনিবেশ করতে পারবে। তবে রাজ্য সরকারের চাওয়া অনুযায়ী যদি এই বাহিনী শেষ পর্যন্ত অক্টোবর মাসের দুর্গাপুজো পর্যন্ত এ রাজ্যে থেকে যায়, তবে তা বাংলার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন এবং দীর্ঘস্থায়ী নজির হয়ে থাকবে।
