ইমপায় উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ভোটাভুটিতে কোণঠাসা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত! – এবেলা

ইমপায় উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ভোটাভুটিতে কোণঠাসা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদলের পর থেকেই টলিপাড়ার অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন ‘ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা ইমপা-র অন্দরে ডামাডোল চলছিল। বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে কিছু সদস্যের ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছিল আগেই। এমনকি সংগঠন কার্যালয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’-এর মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটে। সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অসন্তোষ ও টানাপোড়েনের পর ২২ মে আয়োজিত এক বিশেষ সাধারণ সভায় চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বহিরাগত প্রবেশ ও দিনভর হট্টগোল

এদিন ইমপা কার্যালয়ে বিশেষ বৈঠক ও ভোট প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করা থাকায় সকাল থেকেই সদস্যদের ভিড় জমতে শুরু করে। তবে বৈঠক শুরুর প্রথম থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত অভিযোগ করেন, সংগঠনের সদস্য নন এমন কিছু বহিরাগত ব্যক্তি জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে পড়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ইমপার সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে থানায় যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। যদিও পরে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তিনি পুনরায় বৈঠকে যোগ দিতে যান।

কমিটি ভাঙার প্রস্তাব ও আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি

বৈঠকে বিশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্যেই শুরু হয় সদস্যদের মৌখিক ভোটদান পর্ব। সেখানে উপস্থিত অধিকাংশ সদস্যই বর্তমান সভাপতির বিপক্ষে নিজেদের মত প্রকাশ করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠের এই অনাস্থার জেরে বর্তমান কমিটিকে ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। তবে পিয়া সেনগুপ্ত এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং পুরো বিষয়টির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ভোটাভুটি শেষ হওয়ার পরেও কার্যালয়ের বাইরে দফায় দফায় বিক্ষোভ ও স্লোগান চলতে থাকে।

চলচ্চিত্র মুক্তির চাবিকাঠি ও ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদল

ইমপার এই নজিরবিহীন সংকটের মূল কারণ নিহিত রয়েছে টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্যে। এর আগে রাজ্য প্রশাসনের প্রভাবশালী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ইমপা হাউজে একটি বিশেষ স্ক্রিনিং কমিটি গঠিত হয়েছিল। স্বরূপ বিশ্বাস ও পিয়া সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন সেই কমিটিই মূলত ঠিক করত টলিপাড়ায় ছুটির মরসুমে কবে কোন চলচ্চিত্র মুক্তি পাবে। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই কমিটির ক্ষমতা এখন অকেজো হয়ে পড়েছে।

ইমপার এই বর্তমান অচলাবস্থার কারণে আগামী দিনে টলিপাড়ার চলচ্চিত্র বণ্টন এবং মুক্তির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কমিটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন নির্বাচন প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং শেষ পর্যন্ত কারা সংগঠনের নেতৃত্বে আসবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *