ভুল করে পুশব্যাক করা ভারতীয়দের শেষমেশ ফিরিয়ে আনছে কেন্দ্র, সুপ্রিম কোর্টে বড় ঘোষণা – এবেলা

ভুল করে পুশব্যাক করা ভারতীয়দের শেষমেশ ফিরিয়ে আনছে কেন্দ্র, সুপ্রিম কোর্টে বড় ঘোষণা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলাদেশি সন্দেহে ভুলবশত পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের পুনরায় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সম্মতি জানাল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা স্পষ্ট করেছেন যে, সরকার পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনবে, তবে তার আগে তাঁদের নাগরিকত্ব যাচাই করা হবে। দেশের শীর্ষ আদালতের এই ইতিবাচক বার্তার পর বীরভূমের সোনালি খাতুনের স্বামী দানিশ শেখ এবং সুইটি বিবিসহ বাংলাদেশে আটকে থাকা বাকি ভারতীয়দের স্বদেশে ফেরার পথ প্রশস্ত হলো। তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া কার্যকর করা শুরু হবে।

আইনি জটিলতা ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট বাংলাদেশি হিসেবে ভুল করে পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্র। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বিশেষ বেঞ্চে মামলাটি উঠলে কেন্দ্রের অবস্থান বদলে যায়। শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এই ঘটনাকে অত্যন্ত ‘ব্যতিক্রমী’ এবং ‘অদ্ভুত’ বলে আখ্যায়িত করেছে। আদালত তাঁর অর্ডারে জানিয়েছে, ভারত সরকার পুশব্যাক করা ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর তাঁরা ভারতে থাকতে পারবেন কিনা, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভুলের খেসারত ও মানবিক সংকট

এই আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের একটি মর্মান্তিক মানবিক সংকটের গল্প। বীরভূমের বাসিন্দা, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সোনালি খাতুন, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ, সন্তান এবং সুইটি বিবিসহ বেশ কয়েকজনকে বাংলাদেশি মনে করে সীমান্ত পার করে পুশব্যাক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আইনি তৎপরতায় সোনালি ও তাঁর সন্তানকে এ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও, সোনালির স্বামী দানিশ এবং সুইটি বিবিসহ চারজন এখনো বাংলাদেশে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কারণ ও দূরগামী প্রভাব

সীমান্তবর্তী এলাকায় যথাযথ পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ত্রুটি এবং প্রশাসনিক তাড়াহুড়োর কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পুশব্যাকের ঘটনা ঘটেছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের এই নয়া সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারগুলো আবার এক হওয়ার সুযোগ পাবে, অন্যদিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও পুশব্যাক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভারতের প্রশাসনিক ও আইনি নজরদারি আরও কঠোর হবে। এই রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ মানবিক ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *