হাসপাতালের জমিতেই গজিয়ে উঠল আস্ত পাড়া! হরিণঘাটায় সরকারি জমি দখলের অভিযোগে শোরগোল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
হরিণঘাটা গ্রামীণ হাসপাতালের সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে আস্ত একটি পাড়া গড়ে ওঠার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে এই অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি হাতেনাতে ধরেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। হাসপাতালের জমিতে কোথাও একতলা, আবার কোথাও দোতলা পাকা বাড়ি বানিয়ে দিব্যি বসবাস করছেন বহু মানুষ। সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা এই জনবসতির পেছনে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকে আঙুল
হাসপাতাল চত্বর পরিদর্শনের সময় সারিবদ্ধ পাকা বাড়িগুলো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। তিনি সরাসরি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্বীকার করেছেন যে, এই জমির কোনো বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে নেই। পৌরcluster বা সরকারি অনুমতি ছাড়া কীভাবে এই নির্মাণ হলো, তার জবাবে বাসিন্দারা স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর রাজীব দালালের নাম উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, ওই কাউন্সিলরের আশ্বাস ও মদতেই তারা এখানে ঘর পেয়েছেন। যদিও সাধারণ মানুষ এই জমি হস্তান্তরের আইনি জটিলতা বা ভেতরের সমীকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
পরিষেবায় ঘাটতি ও আগামী পদক্ষেপ
সরকারি জমি এভাবে বেদখল হয়ে যাওয়ার পেছনে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে হাসপাতালের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পথ যেমন রুদ্ধ হচ্ছে, তেমনই সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জমি দখলের পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বরে অবৈধভাবে ওষুধ বিক্রি এবং রোগীদের ঠিকমতো পরিষেবা না পাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে।
এই বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে এবং পরিষেবা উন্নত করতে কী কী ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের (বিএমওএইচ) কাছ থেকে একটি লিখিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। এই সরকারি রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
