দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর মুখোমুখি তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ক ঋতব্রত, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বিদ্রোহের সুর। দলের একাংশের দুর্নীতি ও কিছু নেতার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে যাঁরা সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহেই দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ‘আচমকা’ সাক্ষাৎ ঘিরে জাতীয় রাজধানীর বুকে রাজ্য রাজনীতির পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়ে গেল।
শুক্রবার দুপুরে দিল্লির বঙ্গভবনে দুপুরের খাবার খেতে গিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাচক্রে, ঠিক সেই সময়ই বিজেপির সদর দপ্তর থেকে বঙ্গভবনে এসে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল বিধায়ককে দেখে মুখ্যমন্ত্রী সৌজন্য বিনিময় করেন এবং ‘বিধায়ক সাহেব’ বলে সম্বোধন করেন। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের সেই কথোপকথনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা উন্নয়নের স্বার্থে বৈঠক ডাকব। আপনাদেরও ডাকব। আপনারা আসবেন।” জবাবে ঋতব্রতও হেসে বলেন, “দেখব।”
তাত্পর্যপূর্ণ রাজনৈতিক সময়
এই সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে ঘটল, যার রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। মাত্র দু’দিন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন। দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের দায় তিনি নেবেন না বলে স্পষ্ট জানানোর পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বকে পদক্ষেপ করার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ স্বাভাবিকভাবেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সৌজন্য নাকি নতুন সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হলেও বিষয়টিকে নিছকই ‘সৌজন্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, সাংসদ হিসেবে পাওয়া বাংলো এবং অন্যান্য কাগজপত্র জমা দিতেই তাঁর এই দিল্লি সফর। বঙ্গভবনে খাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র ৪০ সেকেন্ড কথা হয়েছে। একে ‘গোপন বৈঠক’ ভাবার কোনো কারণ নেই বলেই তাঁর দাবি। তবে দলীয় নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ এক বিধায়কের সঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই ক্ষণিকের সংলাপ রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
