২২ বছরের খরা কেটেছে অবশেষে, ভারতসেরার ট্রফি ছুঁয়ে আবেগের লাল-হলুদ বসন্ত লেসলি ক্লডিয়াস সরণিতে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ২২ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশের সেরা লিগ জয়ের স্বাদ পেল ইস্টবেঙ্গল। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ঐতিহাসিক এই সাফল্যের উচ্ছ্বাসে ভাসল লাল-হলুদ ক্লাব চত্বর। একাধিক প্রজন্মের হতাশা ও অধরা স্বপ্নের দগদগে স্মৃতি মুছে দিয়ে বাঁধভাঙা সেলিব্রেশনে মেতে উঠলেন হাজার হাজার সমর্থক। লাল-হলুদ আবির, পতাকা, টিফো ও ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা টিশার্টে সেজে ক্লাব প্রাঙ্গণে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব জনসমুদ্র। আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসবে গ্যালারিতে ছোটদের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া। উৎসবের কেন্দ্রে থাকা ইউসুফ ইজেজারি, নন্দকুমার কিংবা ডার্বির নায়ক এডমুন্ড লালরিনডিকাদের ঘিরে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। পোডিয়ামে গোটা দল ট্রফি নিয়ে মেতে উঠতেই বহু সমর্থক আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন স্পনসর সংস্থা ইমামি গ্রুপের কর্তারাও, আর আইএফএ-র পক্ষ থেকে পাঠানো মিষ্টি উৎসবের আবহকে আরও মধুর করে তোলে।
সাফল্যের নেপথ্য নায়ক ও বিচ্ছেদের সুর
এই ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ের পেছনে অন্যতম মূল কারিগর দলের কোচ অস্কার ব্রুজো। তবে সাফল্যের এই চরম মুহূর্তেও সমর্থকদের মনে আনন্দ ও আশঙ্কা কাজ করছে সমান্তরালে। মরশুমের মাঝপথেই অস্কারের ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা ফুটবল মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এমন সিদ্ধান্ত দলের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ক্লাব কর্তা ও প্রাক্তন ফুটবলারদের একাংশ সমালোচনাও করেছিলেন। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে অস্কার প্রমাণ করেছেন তাঁর পেশাদারিত্ব। ট্রফি জয়ের পর গ্যালারিজুড়ে সমর্থকদের হাতে দেখা যায় ‘স্টে অস্কার’ পোস্টার। প্রিয় কোচের কাছে সমর্থকদের একটাই আর্জি, তিনি যেন লাল-হলুদ শিবিরেই থেকে যান।
ভবিষ্যতের জল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
খেতাব জয়ের পর কোচ অস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। কোচ নিজেই জানিয়েছেন যে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনি লোভনীয় প্রস্তাব পাচ্ছেন। তবে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব চাইলে আগামী ১ জুন দল গঠনের বিষয়ে আলোচনায় বসতে তিনি প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইমামি কর্তারা এই চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা অস্কারের থাকা না-থাকার বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি। অস্কার যদি শেষ পর্যন্ত ক্লাব ছাড়েন, তবে আগামী মরশুমে ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে এবং এশীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নতুন কোনো কোচের অধীনে ফুটবলারদের মানিয়ে নেওয়া এবং এই চাঙ্গা মনোবল ধরে রাখাই এখন লাল-হলুদ শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
