ঐতিহ্যবাহী শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল, শুভেন্দু সরকারের প্রশাসনিক সৌজন্যে নতুন সমীকরণ – এবেলা

ঐতিহ্যবাহী শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে কুণাল, শুভেন্দু সরকারের প্রশাসনিক সৌজন্যে নতুন সমীকরণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বেলেঘাটার বিখ্যাত বিধানচন্দ্র রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। শুধু কুণাল ঘোষই নন, তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজন বিধায়ককে তাঁদের নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে আমন্ত্রিত সদস্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নতুন প্রশাসন। এই প্রশাসনিক চিঠির পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হলেও কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি সরকারের এই প্রস্তাব সানন্দেই গ্রহণ করছেন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অতীত সমীকরণ

কুণাল ঘোষের রাজনৈতিক জীবনের খতিয়ান ঘাঁটলে দেখা যায়, অতীতেও তাঁর কাছে এই ধরণের পদের প্রস্তাব এসেছিল। ২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার তৎকালীন সাংসদ থাকাকালীন তাঁকে ‘কলকাতা টেলিফোনস’-এর উপদেষ্টা কমিটির শীর্ষ পদে বসানোর প্রস্তাব দিয়েছিল দিল্লির বিজেপি সরকার। সেই সময়ে তৃণমূল নেতা মুকুল রায় সবেমাত্র বিজেপিতে যোগ দিয়ে কুণাল ঘোষকেও পদ্মশিবিরে টানার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তবে সেবার অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কেন্দ্রের সেই বড় পদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলের তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু এবার বেলেঘাটার বিধায়ক হিসেবে নিজের এলাকার ঐতিহ্যশালী হাসপাতালের ভালো-মন্দের খোঁজ রাখা ও সুষ্ঠু পরিষেবার দায়িত্ব পালনে তিনি এই প্রস্তাব গ্রহণ করে নিচ্ছেন।

প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত দেড় দশকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে এই ধরণের ছবি কার্যত দেখাই যেত না। জেলা স্তরের বড় প্রশাসনিক বৈঠক কিংবা সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি থেকে বিরোধী দলের বিধায়কদের সুকৌশলে দূরে সরিয়ে রাখা হতো। তা নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে বিরোধীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছিল।

২০২৬ সালে এসে এই ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টে গেল। রাজ্যে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে তৃণমূল এখন বিরোধী আসনে বসলেও, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং বিরোধী বিধায়কদেরও এলাকার উন্নয়নে সামিল করার এক ব্যতিক্রমী কৌশল নিচ্ছেন—কুণাল ঘোষকে এই পদ দেওয়া তারই এক বড় প্রমাণ। কুণালের এই পথ ধরে তৃণমূলের বাকি বিধায়করাও সরকারের এই প্রশাসনিক সৌজন্য গ্রহণ করেন কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *