খোল-করতালে ‘হরিবোল’ ধ্বনি আর বুলডোজারের দাপট, বাংলায় জয়ের পর পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির নজিরবিহীন উদযাপন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বাংলায় পরিবর্তনের পর পূর্ব বর্ধমান জেলায় নজিরবিহীন ও ভিন্ন মেজাজের বিজয় মিছিল করল বিজেপি। জেলার আউশগ্রামে সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল কাঁধে নিয়ে ‘হরিবোল’ ধ্বনিতে যেমন তৈরি হলো বিতর্কিত আবহ, তেমনই অন্যপ্রান্তে ভাতারে উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী মডেল’-এর আদলে বুলডোজার নিয়ে বের হলো অভিনন্দন যাত্রা। ভোট মিটলেও রাঢ় বাংলার মাটিতে বিজেপির এই দুই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
কুশপুতুল কাঁধে ‘হরিবোল’ স্লোগান
আউশগ্রাম বিধানসভার বিল্বগ্রাম অঞ্চলের তকিপুর গ্রামে বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডলের উদ্যোগে একটি অভিনব ও বিতর্কিত বিজয় মিছিল বের হয়। খোল, করতাল ও খঞ্জনির আওয়াজের সঙ্গে গেরুয়া আবির উড়িয়ে একদল কর্মী-সমর্থক ‘বল হরি হরিবোল’ ধ্বনি দিতে দিতে এগিয়ে যান। মিছিলের মূল আকর্ষণ ছিল কাঁধে নেওয়া সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদলে পোশাক পরানো একটি কুশপুতুল, যা নিয়ে কর্মীরা গোটা গ্রাম পরিক্রমা করেন। উল্লেখ্য, এই আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে এবার জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝি, যিনি একসময় এলাকায় পরিচারিকার কাজ করতেন।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা এক বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছেন। মিছিলে উপস্থিত বিধানসভার কনভেনার গণেশ সরকার জানান, রাজ্যে পরিবর্তনের পর কর্মীরা উৎসব করছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাইপো অন্যায়ের সাজা হিসেবে একদিন জেলে যাবেন এবং কুশপুতুল কাঁধে ঘোরার মাধ্যমে এই বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ভাতার জুড়ে ‘বুলডোজার’ রাজনীতি
একই দিনে জেলার ভাতার বিধানসভার ওড়গ্রামে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। সেখানে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে একটি বিশালাকার বুলডোজারকে সামনে রেখে অভিনন্দন যাত্রা বের করে বিজেপি। নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফার নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে টোটো, দলীয় পতাকা এবং শয়ে শয়ে কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তার দু’পাশে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই প্রতীকী বুলডোজার নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়।
তীব্র বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও এই ধরনের আগ্রাসী ও অভিনব উদযাপন জেলা স্তরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আউশগ্রামের ঘটনাটি যেখানে প্রতিপক্ষের প্রতি চরম অবমাননাকর হিসেবে দেখা হচ্ছে, সেখানে ভাতারের বুলডোজার প্রদর্শনকে বিরোধী শিবিরের প্রতি এক ধরনের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
যদিও এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ প্রতীকী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা বলে দাবি করেছে বিজেপি। ভাতার-এর নবনির্বাচিত বিধায়ক সৌমেন কার্ফা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সৎ মানুষদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, এই বুলডোজার মূলত সমাজবিরোধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের ভয় দেখানোর জন্য এবং এলাকায় বিগত দিনে ঘটে চলা অন্যায় গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক। তবে এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
