বিশ্বের অস্থিরতার মাঝেই মোদীর তিন মন্ত্র, গতিশীল প্রশাসন ও বিকল্প জ্বালানিতেই ভরসা দিল্লির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ছয় দিনে পাঁচ দেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই পুরোদমে অ্যাকশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ চার ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠকে বসেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ২০২৬ সালের এই প্রথম পূর্ণমন্ত্রী এবং স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে দেশের ভবিষ্যৎ ও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকে তরান্বিত করাই এখন মোদী সরকারের মূল লক্ষ্য।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও ফাইলে গতি আনার নির্দেশ
বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি সুরক্ষার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈঠক থেকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে বিঘ্ন ঘটতে পারে। আর এই সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই ভারতকে প্রস্তুত হতে হবে। এর সমাধান হিসেবে বায়োগ্যাস এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য বিকল্প শক্তির উৎসের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তনের নির্দেশ এসেছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা ‘লাল ফিতার ফাঁসে’ পড়ে যেন কোনো সরকারি ফাইল আটকে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যেকোনো জনকল্যাণমুখী ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত যাতে দ্রুত নেওয়া যায়, তার জন্য মন্ত্রীদের কাজের গতি বাড়াতে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
লক্ষ্য বিকশিত ভারত ২০৪৭
সামনেই আগামী ১০ জুন মোদী-৩ সরকারের বর্ষপূর্তি। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র বা ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, তা কেবল কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়। এটি দেশবাসীর কাছে সরকারের একটি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সংকটের মুখে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতকে সুরক্ষিত করার আগাম ঢাল তৈরি করলেন, অন্যদিকে তেমনি স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপে মন্ত্রীদের অবিচল থাকার বার্তা দিলেন। মূলত দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিকল্প শক্তির অনুসন্ধান—এই দুই কৌশলেই আগামী দিনে বৈশ্বিক মন্দা ও সংকট কাটিয়ে উঠতে চাইছে দিল্লি।
