২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গলের খেতাব জয়েও কি ‘মহমেডান-কাঁটা’, ময়দানি ঈর্ষা নাকি কাঠগড়ায় মোহনবাগানের আত্মতুষ্টি? – এবেলা

২২ বছর পর ইস্টবেঙ্গলের খেতাব জয়েও কি ‘মহমেডান-কাঁটা’, ময়দানি ঈর্ষা নাকি কাঠগড়ায় মোহনবাগানের আত্মতুষ্টি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দীর্ঘ ২২ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের সেরা ফুটবল ক্লাবের মুকুট মাথায় তুলেছে ইস্টবেঙ্গল। তবে লাল-হলুদের এই ঐতিহাসিক রূপকথার জয়ের পর থেকেই কলকাতার ফুটবল মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের সঙ্গে সমান ২৬ পয়েন্ট থাকা সত্ত্বেও শুধু গোলপার্থক্যে এগিয়ে থেকে ট্রফি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল। আর এই গোলপার্থক্যের নেপথ্যে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৭-০ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচটি আসতেই সবুজ-মেরুন সমর্থকদের একাংশ ম্যাচ ‘ম্যানেজ’ করার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলছেন। সাদা-কালো ব্রিগেড কি আসলেই সাত গোল খাওয়ার দল, নাকি এই বিতর্কের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে অন্য সমীকরণ, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

মহমেডানের বেহাল দশা ও দুর্বল পরিকাঠামো

তদন্ত বা বিশ্লেষণের শুরুতেই উঠে আসছে এ মরসুমে মহমেডানের হতশ্রী পারফরম্যান্সের চিত্র। ১৩টি ম্যাচের একটিতেও জিততে না পারা শতাব্দীপ্রাচীন এই ক্লাবটি লিগের তলানিতে থেকে অবনমিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ক্লাব কর্তৃপক্ষের কোন্দল, ফুটবলারদের ঠিকমতো বেতন না পাওয়া এবং দল গঠনে কোনো বিদেশি ফুটবলার না থাকা—সব মিলিয়ে শুরু থেকেই ধুঁকছিল সাদা-কালো ব্রিগেড। মূল কোচ মেহেরাজউদ্দিন ওয়াডুকে মূলত অনভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দল নামাতে হয়েছিল। মুম্বই সিটির কাছে ০-৪ বা মোহনবাগানের কাছে ১-৫ গোলে হার প্রমাণ করে যে, মহমেডানের রক্ষণভাগ পুরো মরসুম জুড়েই ছিল নড়বড়ে। ফলে ইস্টবেঙ্গলের কাছে তাদের বড় ব্যবধানে হার কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তাদের দুর্বল পরিকাঠামোরই অনিবার্য পরিণতি।

লাল-হলুদের অনবদ্য লড়াই বনাম সবুজ-মেরুনের আত্মতুষ্টি

পরিসংখ্যান বলছে, এ মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের স্ট্রাইকাররা অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করেছেন। কোচ অস্কার ব্রুজ়োর অধীনে চোট-আঘাতের জর্জরিত সমস্যা সামলেও ফুটবলাররা মাঠের লড়াইয়ে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। পিছন থেকে তাড়া করে মোহনবাগানকে পয়েন্ট তালিকায় ধরে ফেলেছিল তারা। অন্য দিকে, খাতায়-কলমে শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও মোহনবাগানের বিদেশি ফুটবলারদের ফর্মহীনতা এবং সুযোগ নষ্টের মহড়া তাদের ডুবিয়েছে।

সাবেক ফুটবলারদের মতে, শুধু মহমেডান ম্যাচের গোলপার্থক্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। লিগের মাঝপথে ফুটবলারদের ছুটি দেওয়া এবং ইন্টার কাশী ম্যাচে শুভাশিস বোস বা লিস্টন কোলাসোর মতো তারকাদের প্রথম একাদশে না রাখার মতো অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিই মোহনবাগানের পয়েন্ট নষ্টের মূল কারণ। পেশাদার ফুটবলে সুযোগ বুঝে গোলপার্থক্য বাড়িয়ে নেওয়া যেকোনো দলেরই রণকৌশল, যা ইস্টবেঙ্গল সফলভাবে কাজে লাগিয়েছে। যোগ্য দল হিসেবেই মাঠের লড়াই জিতে ভারতসেরা হয়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড, আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের এই কটাক্ষকে ময়দানি ঈর্ষা ছাড়া অন্য কিছু বলতে নারাজ ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *