মুম্বইয়ে ধরা পড়লেন হাওড়ার সেই ভাইরাল ‘গুপ্তঘরের’ মালিক তৃণমূল নেতা বড়ে! – এবেলা

মুম্বইয়ে ধরা পড়লেন হাওড়ার সেই ভাইরাল ‘গুপ্তঘরের’ মালিক তৃণমূল নেতা বড়ে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টানা দুই সপ্তাহের টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন হাওড়ার শিবপুরের কুখ্যাত তৃণমূল নেতা শমিম আহমেদ ওরফে বড়ে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পালিয়ে সুদূর মহারাষ্ট্রে আত্মগোপন করেও শেষ রক্ষা হলো না তাঁর। মুম্বই অপরাধদমন শাখা এবং হাওড়া সিটি পুলিশের যৌথ অভিযানে মুম্বই থেকে বড়ে এবং তাঁর দুই প্রধান সহযোগী জাভেদ আখতার ও ক্রান্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসা, বোমাবাজি এবং গুলি চালানোর মতো একাধিক গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এই তিন জন।

বিলাসবহুল গুপ্তঘর ও ভাইরাল রহস্য

সম্প্রতি শিবপুর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বড়ের বিলাসবহুল তিনতলা বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেই তল্লাশির পরেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়, যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠে সাধারণ মানুষের। দেখা যায়, বাইরে থেকে সাধারণ দেখতে হলেও ওই বাড়ির তিনতলা থেকে দোতলায় নামার জন্য একটি বিশেষ গুপ্ত সিঁড়ি ব্যবহার করতেন এই নেতা। তিনতলার ঘরগুলোতে সাধারণ আসবাবপত্র থাকলেও, দোতলার ঘরগুলো ছিল বিপুল বিলাসব্যসনের দামি উপাদানে ঠাসা। এই ঘটনার পর থেকেই বড়ের সন্ধানে তল্লাশি জোরদার করে পুলিশ।

রাজনৈতিক যোগসূত্র ও অপরাধের খতিয়ান

বড়ের এই গ্রেফতারির পর স্বভাবতই চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকেই দিনের পর দিন নিজের অপরাধের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন এই নেতা। এমনকি রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেছে বিজেপি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বড়ের বিরুদ্ধে অপরাধের খতিয়ান বেশ দীর্ঘ। তিন বছর আগে রামনবমীর শোভাযাত্রায় হামলা চালানোর অভিযোগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। এবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর শিবপুর এলাকায় বোমাবাজি ও গুলি চালনার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর নাম জড়ায়।

আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য প্রভাব

এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারি হাওড়া সংলগ্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় সাফল্য বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে ফেরার থাকা এই নেতার পাকড়াও হওয়ার ফলে শিবপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক হিংসা ও বোমাবাজির ঘটনায় রাশ টানা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধীরা শাসকদলের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছিল, বড়ের গ্রেফতারি এবং তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ‘গুপ্তঘরের’ রহস্য সেই অভিযোগকে আরও বেশি হাতিয়ার করার সুযোগ করে দিল বিরোধী শিবিরের হাতে। ঘটনার মূল শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *