কুয়োয় স্নান করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মধ্যপ্রদেশে তিন বোনের সলিলসমাধি! – এবেলা

কুয়োয় স্নান করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মধ্যপ্রদেশে তিন বোনের সলিলসমাধি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রদেশের রাইসেন জেলায় এক চরম পারিবারিক ও সামাজিক ট্র্যাজেডি নেমে এসেছে। শনিবার সকালে জেলার গাইরাতগঞ্জ তহসিলের সাগর গ্রামে একটি সিঁড়িযুক্ত কুয়ো বা স্টেপওয়েলে স্নান করতে নেমে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তিন নাবালিকা বোনের। একই সাথে স্নান করতে নামা অপর এক বোন কোনো রকমে বেঁচে ফিরে পরিবারকে খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অসতর্কতা ও বাঁচাতে যাওয়ার চেষ্টাই কাল হলো

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে হালকে রাম আদিবাসীর দুই মেয়ে রাধা আদিবাসী (১২) ও তনু আদিবাসী (১৩) এবং রাম গোপাল আদিবাসীর দুই মেয়ে অমৃতা আদিবাসী (১২) ও অভিনা আদিবাসী (১৩) গ্রামের ওই ঐতিহাসিক ও সুগভীর কুয়োটিতে স্নান করতে গিয়েছিল। স্নান করার এক পর্যায়ে গভীর জলের টানে আচমকাই একজন তলিয়ে যেতে শুরু করে। বোনকে ডুবতে দেখে অপর দুই বোন তাকে বাঁচাতে কুয়োর গভীর জলে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জলের গভীরতা ও সাঁতার না জানার কারণে তারা তিনজনই সেখানে তলিয়ে যায়। প্রাণে বেঁচে যাওয়া একমাত্র কিশোরী অভিনা দ্রুত বাড়ি ফিরে পরিবারকে ঘটনার কথা জানায়।

গ্রামবাসীর তৎপরতা ও তদন্তের উদ্যোগ

খবর পেয়েই পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং কুয়োর জল থেকে তিন কিশোরীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত তাদের গাইরাতগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বীরেন্দ্র বিশ্বকর্মা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর দেহগুলি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ একটি মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

সম্ভাব্য প্রভাব ও গ্রামীণ সুরক্ষার প্রশ্ন

এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলের উন্মুক্ত জলাশয় ও স্টেপওয়েলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। গ্রামীণ ভারতের বহু এলাকায় নিত্যদিনের জল সংগ্রহ ও স্নানের জন্য এই ধরনের প্রাচীন গভীর কুয়োর ওপর মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু সেখানে কোনো ধরনের সুরক্ষাবেষ্টনী বা লাইফ জ্যাকেটের মতো জরুরি উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় প্রায়শই নাবালকদের এমন অকালমৃত্যুর শিকার হতে হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনকে গ্রামীণ জলাশয়গুলোর চারপাশে নজরদারি বৃদ্ধি এবং সচেতনতা তৈরিতে বাধ্য করতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অবোধ শিশুর প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *