রাহুলের মৃত্যুর পরেও ফিরল না হুঁশ, দিঘায় ফের সমুদ্রের ঢেউয়ে প্রাণ হারালেন কলকাতার পর্যটক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও দুর্ঘটনা দিঘার সমুদ্র সৈকতে। এবার ছুটি কাটাতে গিয়ে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে প্রাণ হারালেন কলকাতার এক যুবক। শনিবার দুপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী দিঘায়। বারবার নিষেধাজ্ঞা ও সচেতনতামূলক প্রচারের পরেও পর্যটকদের এই অসচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত পর্যটকের নাম চিরঞ্জিত সরকার (৩৫)। তিনি কলকাতার বাগুইআটি থানার ৪ নম্বর কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। সপ্তাহান্তের ছুটি উপভোগ করতে তিনি দিঘায় বেড়াতে এসেছিলেন। শনিবার দুপুরে দিঘার জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ির নিকটবর্তী সৈকতে স্নান করতে নামেন চিরঞ্জিত। ঠিক সেই সময়ই সমুদ্রের একটি বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে তিনি আচমকা গভীর জলে তলিয়ে যান। স্থানীয় নুলিয়া ও উদ্ধারকারীরা দ্রুত চেষ্টা করেও তাঁকে তৎক্ষণাৎ বাঁচাতে পারেননি। পরে সমুদ্র থেকে তাঁর অচেতন দেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।
উধাও সতর্কতা, বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি
কয়েকদিন আগেই দিঘার পার্শ্ববর্তী তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং করার সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় টলিউডের পরিচিত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই ঘটনার পর সমুদ্র সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছিল। প্রশাসনের তরফ থেকেও পর্যটকদের সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে বারবার সতর্কবার্তা জারি করা হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন। কিছু অতিউৎসায়ী পর্যটকের অসতর্কতা এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রবণতাই মূলত এই ধরনের দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই লাগাতার দুর্ঘটনার ফলে দিঘার মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। জোয়ারের সময় বা সমুদ্র উত্তাল থাকলে সিভিল ডিফেন্স কর্মী ও নুলিয়াদের নজরদারি এড়িয়ে পর্যটকদের একাংশ গভীর জলে নেমে পড়ছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সাধারণ পর্যটকদের মনে ভীতি তৈরি হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে দিঘার পর্যটন ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কলকাতার এই যুবকের মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এর পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই সাথে সৈকতে নজরদারি আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
