“বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক হবে ভারত, রোখার সাধ্য কারও নেই”: হুঙ্কার রাজনাথ সিংয়ের – এবেলা

“বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক হবে ভারত, রোখার সাধ্য কারও নেই”: হুঙ্কার রাজনাথ সিংয়ের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

“ভারত হবে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক, কেউ রুখতে পারবে না”— প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর মেগা ঘোষণা

ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে (Defense Sector) এক যুগান্তকারী ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিলেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। শনিবার মহারাষ্ট্রের শিরডিতে একটি আধুনিক গোলাবারুদ উৎপাদন কারখানার (Ammunition Manufacturing Unit) উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী বা রপ্তানিকারক (Exporter) দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এবং ভারতের এই মহাসফরকে বিশ্বের কোনো শক্তিই রুখতে পারবে না।

প্রাইভেট সেক্টরের অংশীদারিত্ব ৫০% করার লক্ষ্য

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন ভারতকে কেবল বিদেশ থেকে অস্ত্র আমদানিকারী (Importer) দেশ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আজ ভারত সেই পরিচয় বদলে ফেলছে।

সরকারের বর্তমান লক্ষ্য হলো দেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি ক্ষেত্রের (Private Sector) অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে ৫০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। রাজনাথ সিং জোর দিয়ে বলেন, যখন সরকারের সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের উদ্ভাবনী শক্তি (Innovation) এক জায়গায় মেলে, তখন দেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।

শুধু ‘নাট-বল্টু’ নয়, দেশেই তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক অস্ত্র

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ভারতের প্রাইভেট সেক্টর এখন আর কেবল ছোটখাটো ‘নাট-বল্টু’ সরবরাহ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আজ তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র এবং অস্ত্রোপকরণ তৈরি করছে। ভারতকে গোলাবারুদ এবং ‘অটোমেশন’-এর গ্লোবাল হাব (Global Hub) হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে ‘মাল্টি-সেক্টরাল’: সিডিএস অনিল চৌহান

এই একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের কঠিন চ্যালেঞ্জগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দেন দেশের চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) জেনারেল অনিল চৌহান। তিনি জানান, আগামী দিনে যুদ্ধ কেবল জল, স্থল বা আকাশের লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা হবে সম্পূর্ণ ‘মাল্টি-সেক্টরাল’ (Multi-Sectoral)। ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলি সাইবার স্পেসের পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক (Psychological) উপায়েও লড়া হবে।

হার-জিত ঠিক করবে এআই এবং রোবোটিক্স

আধুনিক যুদ্ধকৌশলের আমূল পরিবর্তনের উল্লেখ করে সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান বলেন:

  • এখনকার যুদ্ধ আর কেবল মানুষের শারীরিক শক্তি বা চিরাচরিত গণ্ডিবদ্ধ অস্ত্রের ভরসায় জেতা সম্ভব নয়।
  • আগামী দিনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), ড্রোন প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, স্পেস টেকনোলজি এবং নিখুঁত নিশানাযুক্ত অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রই যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করবে।
  • ভবিষ্যতের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য ‘ইনফরমেশন ডমিন্যান্স’ বা তথ্যের ওপর আধিপত্য বজায় রাখা অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এক ঝলকে

  • আগামী ২৫-৩০ বছরে ভারত হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ, শিরডিতে দাবি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর।
  • প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি ক্ষেত্রের (Private Sector) অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে ৫০% করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র।
  • ক্ষুদ্রাংশ বা নাট-বল্টু তৈরির দিন পেরিয়ে ভারতের নিজস্ব সংস্থাগুলি এখন অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম।
  • ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে সাইবার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর; এআই (AI) এবং রোবোটিক্সই হার-জিত ঠিক করবে বলে জানালেন সিডিএস অনিল চৌহান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *