ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, সোমবারে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি – এবেলা

ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, সোমবারে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা নয়ডার বাসিন্দা ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল দেশের শীর্ষ আদালত। দীর্ঘদিন ধরে ত্বিষার পরিবার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে পণের দাবিতে নির্যাতন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলছিল। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাটি গ্রহণ করায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড়সড় মোড় এসেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি হতে চলেছে। এই বেঞ্চে অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি। শীর্ষ আদালতের এই সক্রিয় ভূমিকা মৃতার পরিবারের মনে ন্যায়বিচারের আশা জাগিয়ে তুলেছে।

প্রভাবশালী মহলের চাপ ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি

ত্বিষার পরিবারের মূল অভিযোগ, তাঁর স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় পুলিশি তদন্তকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা করছেন। গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ত্বিষাকে মাদকাসক্ত বলে দাবি করা হলেও পরিবারের অভিযোগ, পণের জন্য লাগাতার মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণেই এই চরম পরিণতি। প্রাক্তন মিস পুণে তথা উচ্চশিক্ষিত এক তরুণীর এমন মৃত্যুতে প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্র থাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে নতুন মাত্রা পেল।

আইনি তৎপরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘটনার পর থেকে প্রায় ১০ দিন পলাতক থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন পেশায় আইনজীবী স্বামী সমর্থ সিং। জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যাওয়ার সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং ভোপাল আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের জামিন বাতিলের নোটিস জারি হয়েছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লি এইমস-এর চার সদস্যের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের জন্য ভোপালে পৌঁছেছে, কারণ প্রাথমিক ময়নাতদন্তে মৃতার হাত ও ঘাড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মিলেছিল। দেশের শীর্ষ আদালত এই মামলা নিজের হাতে নেওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়বে এবং এই হাই-প্রোফাইল মামলার প্রতিটি আইনি পদক্ষেপ এখন কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *