কাজের নিরিখে মোদীর কোন মন্ত্রক সেরা আর কারা পিছিয়ে, সামনে এল রিপোর্ট কার্ড – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নয়া দিল্লি: কেন্দ্রের মোদী সরকারের কোন মন্ত্রক কেমন কাজ করছে এবং কারা পারফরম্যান্সের দিক থেকে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে, এবার তা স্পষ্ট হয়ে গেল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা হয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক সূচককে সামনে রেখে এই রিপোর্ট কার্ড তৈরি করেছেন ক্যাবিনেট সচিব টি. ভি. সোমানাথন। এই মূল্যায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কাজের গতিপ্রকৃতি যাচাই করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা।
সেরা পারফরম্যান্সের তালিকায় যারা
রিপোর্ট কার্ড অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মতো জটিল পরিস্থিতি দক্ষ হাতে সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো কাজ করেছে ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক (কনজ়িউমার অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার)। অন্যদিকে, সরকারি ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি ও অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার নিরিখে সবাইকে টেক্কা দিয়ে সেরা রেটিং ছিনিয়ে নিয়েছে কয়লা মন্ত্রক। শীর্ষস্থানে না থাকলেও সামগ্রিক মূল্যায়নে বেশ ইতিবাচক ও সন্তোষজনক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে দেশের বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
কাজের গতি বাড়াতে তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
এই রিপোর্ট কার্ড সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। ইতিমধ্যেই অনেক মন্ত্রী নিজেদের দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেছেন এবং আগামী সপ্তাহে আরও কয়েকটি মন্ত্রক একই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কৃষক ও আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন এবং জনঅভিযোগ নিষ্পত্তিকেই যেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এই মূল্যায়নের পর প্রশাসনিক স্তরে ফাইল আটকে থাকার প্রবণতা কমবে এবং সরকারি প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, প্রশাসনিক কাজে কোনো রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। প্রতিটি মন্ত্রককে বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় আইনি বা দাপ্তরিক জটিলতায় ফাইল আটকে রাখা যাবে না। সেই সঙ্গে মন্ত্রীদের যেকোনো ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে চলারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
