জনসংখ্যায় বড় বদল! ভারতে কমছে শিশু, বাড়ছে প্রবীণদের সংখ্যা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে কমছে শিশুদের সংখ্যা, মাত্র ৬টি রাজ্যে প্রজনন হার ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর ওপরে: এসআরএস রিপোর্ট
ভারতে জনসংখ্যা ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এক বড়সড় ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের চিত্র সামনে এল। ২০২৪ সালের ‘স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (SRS) রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক প্রজনন হার (Total Fertility Rate বা TFR)-এ বড়সড় পতন নথিভুক্ত হয়েছে। একজন মহিলা তাঁর জীবনকালে গড়ে কতগুলি সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন, সেই গড় হার (TFR) এখন আদর্শ সূচক ২.১ থেকে আরও কমে ১.৯-এ নেমে এসেছে।
এই পতনের জেরে দেশের মাত্র ৬টি রাজ্যে প্রজনন হার জনসংখ্যাকে স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয় স্তর বা ‘রিপ্লেমেন্ট লেভেল’-এর ওপরে রয়েছে।
কী এই ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’?
জনসংখ্যা বিজ্ঞানের পরিভাষায়, যখন প্রজনন হার (TFR) ২.১ থাকে, তখন তাকে ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’ (Replacement Level) বলা হয়। এর সহজ অর্থ হলো— বাবা-মায়ের জায়গা নিচ্ছে নতুন প্রজন্মের সন্তানরা, যার ফলে জনসংখ্যা স্থিতিশীল বা স্থির থাকে। এই সূচকের নিচে নামার অর্থ হলো, ভবিষ্যতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমবে এবং ধীরে ধীরে শিশুদের সংখ্যা কমতে কমতে একসময় মোট জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে।
কোন কোন রাজ্যে প্রজনন হার ওপরে?
দেশের মাত্র ৬টি রাজ্যে প্রজনন হার এখনও ২.১-এর ওপরে রয়েছে:
১. বিহার: এখানে প্রজনন হার সবচেয়ে বেশি— ২.৯। গত এক দশকে এখানে সবচেয়ে কম (মাত্র ৯.৪%) পতন দেখা গেছে।
২. উত্তর প্রদেশ
৩. মধ্যপ্রদেশ
৪. রাজস্থান
৫. ছত্তিশগড়
৬. ঝাড়খণ্ড
সবচেয়ে কম দিল্লিতে, বাংলায় কত?
রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের রাজধানী দিল্লিতে প্রজনন হার সবচেয়ে কম— মাত্র ১.২। দিল্লির পরেই রয়েছে কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পশ্চিমবঙ্গ— এই তিন রাজ্যে TFR বা প্রজনন হার এখন ১.৩-এ নেমে এসেছে।
যেসব রাজ্যে এক দশক আগেই প্রজনন হার কমেছিল, সেখানে শিশুদের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। যেমন তামিলনাড়ুতে মোট জনসংখ্যার মধ্যে শিশুর সংখ্যা (০-১৪ বছর) মাত্র ১৮%, যেখানে বিহারে এই হার ৩১.৫%। সমগ্র ভারতের নিরিখে মোট জনসংখ্যার মাত্র ২৪% এখন ০-১৪ বছর বয়সসীমার মধ্যে পড়ে।
বাড়ছে প্রবীণদের সংখ্যা
শিশুদের সংখ্যা কমলেও দেশে প্রবীণ নাগরিকদের (৬০ বছরের ওপরে) সংখ্যা ৮.৬% থেকে বেড়ে ৯.৭% হয়েছে।
- কেরালা: এখানে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি (১৫%)।
- তামিলনাড়ু: গত ১০ বছরে এখানে প্রবীণদের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে (১০.৬% থেকে বেড়ে ১৪.২%)।
- আসাম: এই রাজ্যে প্রবীণদের সংখ্যা সবচেয়ে কম (৭.৬%)।
আশার আলো: বাড়ছে কর্মক্ষম জনসংখ্যা
প্রজনন হার কমলেও ভারতের জন্য স্বস্তির খবর হলো, দেশে কর্মক্ষম মানুষের (১৫-৫৯ বছর) সংখ্যা বা ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ (Demographic Dividend)-এর গ্রাফ এখনও ঊর্ধ্বমুখী। ভারতের মোট জনসংখ্যার ৬৬.৪% অংশই এখন কর্মক্ষম বয়সের অন্তর্গত, যা ২০১৪ সালে ছিল ৬৪%। অর্থাৎ, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় যুবশক্তির জোগান এখনও ভরপুর।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন হারে এই ঐতিহাসিক পতন ঘটলেও ভারতের মোট জনসংখ্যা এখনই কমতে শুরু করবে না। যেহেতু দেশে বর্তমানে যুবক ও সন্তান উৎপাদনে সক্ষম মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি, তাই ‘পপুলেশন মোমেন্টাম’ (Population Momentum)-এর কারণে আরও কিছুদিন জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, তারপর তা ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোবে।
এক ঝলকে
- ভারতের সামগ্রিক প্রজনন হার (TFR) ২.১ থেকে কমে দাঁড়াল ১.৯-এ; দেশে কমছে শিশুদের সংখ্যা।
- বিহার (২.৯)-সহ দেশের মাত্র ৬টি রাজ্যে প্রজনন হার ‘রিপ্লেসমেন্ট লেভেল’-এর ওপরে।
- দিল্লিতে প্রজনন হার সবচেয়ে কম (১.২); পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা ও তামিলনাড়ুতে এই হার ১.৩।
- দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৬.৪%, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক।
