অগ্রিম ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েও শুটিংয়ে ফাঁকি, অভিনেতা সোহমের বিরুদ্ধে থানায় প্রযোজক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অগ্রিম টাকা নিয়েও দিনের পর দিন শুটিংয়ের সময় (ডেট) না দেওয়া এবং পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বালুরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার বালুরঘাটের মঙ্গলপুরের বাসিন্দা, প্রযোজক তরুণ দাস এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন।
অগ্রিম টাকা এবং দীর্ঘ টালবাহানা
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে একটি চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীকে ব্যাঙ্ক চেকের মাধ্যমে অগ্রিম ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন প্রযোজক তরুণ দাস। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর থেকেই শুটিংয়ের জন্য সময় দিতে টালবাহানা শুরু করেন অভিনেতা। দিনের পর দিন নির্দিষ্ট ডেট না পাওয়ায় সিনেমাটির নির্মাণ কাজ পুরোপুরি আটকে যায়। এর মাঝেই করোনা মহামারি ও লকডাউনের কারণে স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিঘ্নিত হয় এবং দীর্ঘ অচলাবস্থার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রযোজক গভীর আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়েন।
এদিকে ২০২১ সালের নির্বাচনে সোহম চক্রবর্তী বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর প্রযোজক তাঁর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেন এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে সম্পূর্ণ অর্থ না হলেও অন্তত চার-পাঁচ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য প্রযোজককে কলকাতায় ডাকা হলেও, সেখানে টাকা ফেরত দেওয়ার পরিবর্তে উলটে তাঁকে চরম অপমান ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ।
কারণ ও দীর্ঘ নীরবতার প্রভাব
প্রযোজক তরুণ দাসের দাবি, যথাসময়ে অভিনেতার ডেট না পাওয়াই ছবিটির কাজ শুরু না হতে পারার মূল কারণ, যা পরবর্তীতে তাঁকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়। রাজনৈতিক প্রভাব ও তৎকালীন শাসকদলের ভয়ে এতদিন তিনি এই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস পাননি। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সরকার বদল হতেই অবশেষে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে টলিপাড়ার ভেতরের পেশাদারিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চুক্তিভঙ্গের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বালুরঘাট থানার পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে।
