আমদানি জটিলতায় জ্বালানি সঙ্কটের মুখে দেশ, পেট্রোল পাম্পে তেল কেনার নতুন নিয়ম নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বাজারেও। দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আগামী দিনে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই ভবিষ্যতের জন্য অতিরিক্ত তেল মজুত করতে পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে গাড়ি ও বাইকের ট্যাঙ্ক ফুল করছেন, এমনকি অনেকে বড় পাত্র নিয়েও লাইনে হাজির হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ কত লিটার জ্বালানি তেল কিনতে পারেন।
গাড়ির ট্যাঙ্ক এবং খোলা তেল বিক্রির নিয়ম
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক তার যানবাহনের তেলের ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী ইচ্ছামতো সম্পূর্ণ ট্যাঙ্ক ভর্তি করে পেট্রোল বা ডিজেল নিতে পারেন। এক্ষেত্রে পরিমাণের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কোনো যানবাহন ছাড়া আলাদাভাবে পাত্র বা ক্যানে তেল কিনতে চাইলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হয়। সাধারণত সাধারণ প্লাস্টিকের বোতলে কোনো পাম্প থেকে তেল দেওয়া হয় না। শুধুমাত্র স্টিল বা ভারী প্লাস্টিকের তৈরি নিরাপদ পাত্রে অনুরোধ সাপেক্ষে ২ থেকে ৫ লিটার এবং বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ থেকে ১০ লিটার পর্যন্ত তেল কেনা সম্ভব।
বিপুল পরিমাণ তেল মজুতে আইনি নিষেধাজ্ঞা
যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ড্রামে করে ২০, ৫০ কিংবা ২০০ লিটারের মতো বিপুল পরিমাণ পেট্রোল বা ডিজেল কিনতে চান, তবে সাধারণ নিয়মে তা সম্ভব নয়। ১৯৩৪ সালের পেট্রোলিয়াম আইন অনুযায়ী, এই পরিমাণ জ্বালানি কেনার জন্য বৈধ অনুমতিপত্র বা লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়। গ্রাহককে লিখিতভাবে জানাতে হয় যে তারা ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করবেন। এর চেয়েও বেশি পরিমাণ তেল দীর্ঘমেয়াদে মজুত করতে হলে ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন’ (পিসো) থেকে বিশেষ লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। লাইসেন্স ছাড়া বাড়িতে বা অন্য কোথাও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তেল মজুত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি এবং ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বন্ধ থাকাই এই সঙ্কটের মূল কারণ। ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে, যার একটি বড় অংশ আসে এই পথ দিয়ে। এই সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার কারণে দেশের বাজারে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্যস্ফীতি ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
