ইতিহাসে প্রথমবার! গুজরাটে ‘শূন্য’ কংগ্রেস, রাজ্যসভার সব আসনই এবার বিজেপির কব্জায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গুজরাটে কংগ্রেসের চরম বিপর্যয়: প্রথমবার শূন্যে পৌঁছাল রাজ্যসভার আসন, সবকটি আসনই বিজেপির দখলে
গুজরাটের রাজনীতিতে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত। যে গুজরাট একসময় মাধবসিং সোলাঙ্কি, ডক্টর জীবরাজ নারায়ণ মেহতা বা বলবন্তরাই মেহতার মতো কংগ্রেসের বাঘা বাঘা মুখ্যমন্ত্রীদের রাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল, আজ সেখানেই কার্যত মুছে যাওয়ার মুখে দেশের প্রাচীনতম এই রাজনৈতিক দল।
রাজ্যসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, দেশের উচ্চকক্ষে গুজরাট থেকে এবার কংগ্রেসের আর কোনো প্রতিনিধি বা সাংসদ থাকছেন না। স্বাধীনতার পর এবং ১৯৬০ সালে গুজরাট রাজ্য গঠনের পর এই প্রথম রাজ্যসভার নিরিখে পুরোপুরি ‘কংগ্রেস মুক্ত’ হতে চলেছে মোদী-শাহের রাজ্য।
পরিসংখ্যানের দর্পণে কংগ্রেসের ধস
বর্তমানে গুজরাটে রাজ্যসভার মোট ১১টি আসন রয়েছে। নতুন সমীকরণ অনুযায়ী, এই প্রথমবার ১১টি আসনের সবকটিতেই এককভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
- একমাত্র সাংসদের বিদায়: বর্তমান গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শক্তি সিং গোহিল (Shaktisinh Gohil) ছিলেন রাজ্যসভায় গুজরাট থেকে কংগ্রেসের একমাত্র প্রতিনিধি। খুব শীঘ্রই তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
- বিধায়ক সংখ্যার অভাব: ১৮২ আসন বিশিষ্ট গুজরাট বিধানসভায় কোনো রাজ্যসভা আসন জিততে গেলে যে ন্যূনতম বিধায়ক সংখ্যার প্রয়োজন হয়, তা কংগ্রেসের নেই। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কংগ্রেসের হাতে এখন রয়েছে মাত্র ১২ জন বিধায়ক। আসন সংখ্যা এতটাই কম ছিল যে প্রধান বিরোধী দলের (Leader of Opposition) তকমাও হাতছাড়া হয়েছিল তাদের। ফলে আসন্ন ৪টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনে ১টি আসন জেতার ক্ষমতাও কংগ্রেসের নেই।
‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ ও বর্তমান পরিস্থিতি
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে যখন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হয়, তখন বিজেপির তরফ থেকে ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’-এর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে, এর অর্থ কংগ্রেসকে রাজনীতি থেকে মুছে ফেলা নয়, বরং দেশ থেকে পরিবারতন্ত্র, দুর্নীতি এবং ভোটব্যাংকের রাজনীতির মতো ‘কংগ্রেস সংস্কৃতি’ দূর করা। তবে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অন্তত গুজরাটের উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভার ক্ষেত্রে এই স্লোগান আক্ষরিক অর্থেই বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
লোকসভাতেও ধুঁকছে হাত শিবির
শুধু রাজ্যসভাই নয়, লোকসভার ক্ষেত্রেও গুজরাটে কংগ্রেসের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। গুজরাটের মোট ২৬টি লোকসভা আসনের মধ্যে বর্তমানে ২৫টি আসনই বিজেপির দখলে। কংগ্রেসের হাতে রয়েছে মাত্র ১টি আসন। আগামী মাস থেকে গুজরাট থেকে লোকসভায় সমগ্র বিরোধী শিবিরের একমাত্র মুখ হিসেবে টিকে থাকবেন বনাসকান্ঠার কংগ্রেস সাংসদ গেনিবেল ঠাকুর (Geniben Thakor)।
বিজেপির কাছে এটি যেমন এক সোনালী এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সাফল্য, তেমনই ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে কংগ্রেসের জন্য এটি ‘মিশন গুজরাট’ এবং দলের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবার এক বড়সড় ধাক্কা।
এক ঝলকে
- স্বাধীনতার পর এই প্রথম গুজরাট থেকে রাজ্যসভায় শূন্যে নামল কংগ্রেস; একটিও আসন থাকছে না হাত শিবিরের।
- রাজ্যের মোট ১১টি রাজ্যসভা আসনের সবকটিই চলে যাচ্ছে বিজেপির ঝুলিতে।
- একমাত্র বর্তমান কংগ্রেস রাজ্যসভা সাংসদ শক্তি সিং গোহিলের মেয়াদ ফুরোলেই ইতিহাস তৈরি হবে গুজরাটে।
- ১৮২ আসনের বিধানসভায় মাত্র ১২ জন বিধায়ক থাকায় আসন ধরে রাখার ন্যূনতম ক্ষমতা হারিয়েছে কংগ্রেস।
