ঈশ্বরের আপন দেশে ঈশ্বরের নামেই অনীহা ৪২ বিধায়কের! – এবেলা

ঈশ্বরের আপন দেশে ঈশ্বরের নামেই অনীহা ৪২ বিধায়কের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

‘গড’স ওন কান্ট্রি’ বা ঈশ্বরের আপন দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত কেরল। কিন্তু সেই কেরলের বিধানসভাতেই এবার এক অন্যরকম চিত্র সামনে এলো, যেখানে খোদ বিধায়কদেরই একটা বড় অংশের ঈশ্বরে আস্থা নেই। ১৪০ আসনের কেরল বিধানসভায় শপথ নিতে গিয়ে ৪২ জন বিধায়ক ঈশ্বরের নাম নিতে সরাসরি আপত্তি জানিয়েছেন। চিরাচরিত প্রথা ভেঙে ঈশ্বরের পরিবর্তে তাঁরা ‘সলেম অ্যাফার্মেশন’ বা গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে শপথবাক্য পাঠ করেছেন। এই বিধায়কদের সিংহভাগই বাম শিবিরের হলেও তালিকায় রয়েছেন কংগ্রেসসহ অন্য দলের জনপ্রতিনিধিরাও।

বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধিদের নিজেদের পছন্দের ভাষায় এবং ঈশ্বরের নাম কিংবা গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিজ্ঞার মধ্য থেকে যেকোনো একটি বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এবার সেই সুযোগেরই প্রতিফলন ঘটেছে কেরলে। সিপিআইএম ও সিপিআইয়ের টিকিটে জিতে আসা ৩৪ জন বাম বিধায়কই শপথে ঈশ্বরের নাম এড়িয়ে গেছেন। এর পাশাপাশি আরএসপি ও রেভল্যুশনারি মার্কিস্ট পার্টির চারজন এবং কংগ্রেসের দুজন বিধায়কও ঈশ্বরের নামে শপথ নেননি। বাকি বিধায়করা অবশ্য ঈশ্বরের নামেই শপথ নিয়েছেন।

আদর্শের লড়াই বনাম রাজনৈতিক বিবর্তন

কেরল বিধানসভায় ঈশ্বরের নামে শপথ না নেওয়ার এই প্রবণতা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। বামপন্থীরা বরাবরই ধর্মের অস্তিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক রীতিনীতিকে অস্বীকার করে আসছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে বামপন্থীদের নির্বাচনী বিপর্যয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে আদর্শগত শিথিলতা দেখা গেলেও কেরলে তা হয়নি। সেখানকার বাম প্রার্থীরা এখনো নিজেদের মূল আদর্শে অনড় রয়েছেন, যার প্রমাণ এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। তবে এবার বামেদের বাইরে অন্য দলের বিধায়কদের এই তালিকায় যুক্ত হওয়াটা রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাধারার এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বহুমাত্রিকতার নতুন বার্তা

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ঘটনার প্রভাব কেরলের সমাজ ও রাজনীতিতে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে। একদিকে এটি যেমন ধর্মনিরপেক্ষতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যদিকে এটি কট্টর ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে একটি সূক্ষ্ম বার্তাও বটে। তবে শুধু ধর্মের ক্ষেত্রেই নয়, এবার শপথগ্রহণের ক্ষেত্রে ভাষার বৈচিত্রও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। বিধায়করা তাঁদের পছন্দের বিভিন্ন ভাষায় শপথ নেওয়ায় কেরলের শাসক শিবির গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বহুত্ববাদ ও প্রগতিশীলতার এই মেলবন্ধন কেরলের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *