চকচকে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বিষণ্ণ শৈশব! সঞ্জয় দত্তের কন্যা ত্রিশালার লড়াইয়ের গল্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বলিউড তারকাদের সন্তানদের জীবন মানেই জাঁকজমক, প্রাচুর্য আর স্পটলাইটের আলো। সাধারণ মানুষের চোখে তাঁদের জীবন রূপকথার মতো মনে হলেও বাস্তব চিত্রটি যে কতটা নির্মম হতে পারে, তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ অভিনেতা সঞ্জয় দত্তের কন্যা ত্রিশালা দত্ত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের বর্ণবিদ্বেষ, শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ (বডি শেমিং) এবং গভীর একাকীত্বের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। মুখে রুপোর চামচ নিয়ে জন্মানোর পরেও জীবনের প্রতি পদে তাঁকে যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা এক লহমায় সেলিব্রিটি জীবনের সমস্ত গ্ল্যামারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
একাকীত্ব এবং বর্ণবিদ্বেষের জোড়া আঘাত
নিউ ইয়র্কে বড় হওয়া ত্রিশালার লড়াই শুরু হয়েছিল মাত্র পাঁচ-ছয় বছর বয়সে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে স্কুলের সহপাঠীদের কাছ থেকে ক্রমাগত বর্ণবিদ্বেষমূলক কটূক্তি শুনতে হতো তাঁকে। এর পর মিডল স্কুলে পড়ার সময় যখন তাঁর ওজন বাড়তে শুরু করে, তখন যুক্ত হয় ‘বডি শেমিং’। তারকা সন্তান হওয়ার কারণে মানুষের প্রত্যাশার যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে নিজের সাধারণ চেহারার সামঞ্জস্য মেলাতে না পেরে তীব্র মানসিক ট্রমার শিকার হন তিনি। এই মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে তিনি অতিরিক্ত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা পরবর্তীতে তাঁর ওজন আরও বাড়িয়ে দেয় এবং সমাজের চোখে তাঁকে আরও বেশি সমালোচনার পাত্রী করে তোলে।
মাতৃহারা শৈশব ও অভিভাবকত্বের শূন্যতা
ত্রিশালার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় আসে মাত্র আট বছর বয়সে, যখন তাঁর মা রিচা শর্মা মস্তিষ্কের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মায়ের এই চলে যাওয়া তাঁর জীবনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, সেই সময়ে পিতা সঞ্জয় দত্ত নিজেও নানা আইনি জটিলতা, মামলা এবং পেশাগত ব্যস্ততায় বিপর্যস্ত ছিলেন। ফলে ভারত ও আমেরিকার দূরত্ব এবং ব্যক্তিগত সংকটের কারণে বাবাকেও সবসময় পাশে পাননি ত্রিশালা। একদিকে মাতৃহারা হওয়ার বেদনা, অন্যদিকে বাবার অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে এক চরম একাকীত্বের মধ্য দিয়ে কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর।
ব্যক্তিগত সংকট থেকে থেরাপিস্ট হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা
নিজের জীবনের এই কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতাই ত্রিশালাকে জীবনের এক নতুন পথ দেখিয়েছে। সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি বর্তমানে একজন পেশাদার থেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার এই সিদ্ধান্ত মূলত তাঁর নিজের জীবনের লড়াই থেকেই অনুপ্রাণিত। ত্রিশালার এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে, সেলিব্রিটি তকমার আড়ালে লুকিয়ে থাকা মানসিক ক্ষতগুলোকে আড়াল না করে, সেগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা কতটা জরুরি। তাঁর এই সাহসিকতা সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য এবং তারকা সন্তানদের নিয়ে তৈরি হওয়া চটকদার ধারণার পেছনে থাকা অন্ধকার দিকটিকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
