বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষার চাপে পড়ুয়ারা, সিবিএসই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অভিভাবক মহল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই নবম শ্রেণিতে তিনটি ভাষা শিক্ষার পাঠ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। বোর্ডের এই আকস্মিক নির্দেশিকার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি তুলে এবার দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হলেন অভিভাবক ও পড়ুয়াদের একাংশ। মাত্র কয়েকদিন আগে জারি হওয়া এই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার আবেদন জানানো হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহেই এর শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
পড়ুয়াদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ
জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-র সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গত ১৫ মে সিবিএসই একটি নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষেই নবম শ্রেণির পরীক্ষায় তিনটি ভাষার মূল্যায়ন করা হবে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্কুলগুলি নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভাষা বেছে নিতে পারলেও তালিকায় অন্তত দুটি ভারতীয় ভাষা থাকা বাধ্যতামূলক। আচমকা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় অভিভাবকদের পক্ষের আইনজীবী মুকুল রোহতগী আদালতে প্রশ্ন তোলেন, এত কম সময়ের মধ্যে কীভাবে এই নিয়ম কার্যকর করা সম্ভব? তাঁর মতে, পড়ুয়ারা এমনিতেই বর্তমান পাঠ্যক্রমের চাপে দিশেহারা, তার ওপর হঠাৎ নতুন বিষয়ের এই বাড়তি বোঝা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও বোর্ডের অবস্থান
যদিও সিবিএসই জানিয়েছে যে দশম শ্রেণির চূড়ান্ত বোর্ডে এই তৃতীয় ভাষার মূল পরীক্ষা দিতে হবে না এবং স্কুল স্তরেই এর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করা হবে, তবুও এই নম্বরের প্রভাব থাকবে চূড়ান্ত শংসাপত্রে। শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, হঠাৎ করে দুটি ভারতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার ফলে ইংরেজিকে বিদেশি ভাষা হিসেবে গণ্য করতে হবে, যা অনেক স্কুলের পরিকাঠামোয় বড় বদল আনবে। হঠাৎ করে নতুন ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা পড়ুয়াদের চূড়ান্ত ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী সোমবার মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে এবং শীর্ষ আদালতের রায়ের ওপরেই এখন ঝুলে রয়েছে সিবিএসই-র এই নতুন শিক্ষানীতির ভবিষ্যৎ।
